মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

মরুভূমির মাঝে এসি ছাড়াই শীতল স্কুল!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যে দিকে চোখ যায় সে দিকে শুধু বালি আর বালি। ভেসে আসছে গরম বাতাস। এর মাঝেই চলছে পড়াশোনা। মরুভূমির মাঝে স্কুল! ব্যাপারটি কখনও ভেবে দেখেছেন! ভাবনাতেও যেন গরম হাওয়া গায়ে ছ্যাঁকা দিয়ে যাচ্ছে, তাই না? অথচ বাস্তবেও রয়েছে এমনই এক স্কুল।

তাও আবার কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ছাড়াই! স্কুলটিতে এতটাই বিজ্ঞানের ব্যবহার হয়েছে যে খোলামেলা পরিবেশে পড়াশোনা করেও গরম হাওয়ার ভ্রুকূটি উপেক্ষা করা যায় সহজেই।

রাজস্থানের থর মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে বালিপাথরের তৈরি এই অত্যাধুনিক পরিকাঠামো। মরুভূমির মাঝে এই পরিকাঠামো দেখে যে কেউ বিস্মিত হতে পারেন। আসলে এটি মেয়েদের একটি স্কুল!
স্কুলটির নাম রাজকুমারী রত্নাবতী গার্লস স্কুল। স্থানীয় হলুদ বালিপাথর দিয়ে তৈরি হয়েছে স্কুলটি।

স্কুলটিতে কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নেই। তা সত্ত্বেও বাইরের এবং ভিতরের তাপমাত্রার আকাশ-পাতাল পার্থক্য। স্কুল ক্যাম্পাসের ভিতরের মাঠে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে খেলাধুলাও করতে পারবে।

স্কুলটিকে তৈরি করেছে আমেরিকার একটি বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা। অনেক খুঁজে রাজস্থানের থর মরুভূমির এই জায়গাটিকে চিহ্নিত করে ওই সংস্থা।

২০১০ সালে প্রথম এ রকম একটি স্কুল তৈরির পরিকল্পনা করেন ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল দৌবে। তার জন্য দীর্ঘ সময় রাজস্থানে কাটিয়েছেন তিনি। সেখানকার সংস্কৃতি, পরিবেশ গভীরে বুঝেছেন।

এলাকার রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারি স্তরে অনেক আলাপ-আলোচনার পরই এই স্কুলের অনুমতি পান তিনি। স্কুলটি কিন্ডারগার্টেন থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত।

এই অঞ্চলের বেশির ভাগ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বলা চলে। মেয়েদের শিক্ষার হার একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। সেই অবস্থা কাছ থেকে উপলব্ধি করার পর মাইকেল চেয়েছিলেন এমন একটি স্কুল করতে যা সারা ভারতে নজির তৈরি করবে। যে স্কুলে ভর্তি হলে গর্ব বোধ করবেন অভিভাবকেরা। যে স্কুল শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই দেবে না বরং এই অঞ্চলের সংস্কৃতিকেও তুলে ধরবে।

স্কুলটি ডিম্বাকার। চারদিক দিয়ে ঘেরা স্কুলের মাঝখানে ফাঁকা খেলার মাঠ। ছাদে এবং মাঠের ওপর অর্থাৎ পুরো স্কুল ক্যাম্পাসজুড়েই রয়েছে সোলার প্যানেল। একদিকে যেমন এই সোলার প্যানেল বিদ্যুতের জোগান দেয় তেমন মাঠে ছায়া দেয়। যার নীচে নিশ্চিন্তে খেলতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

বালিপাথর দিয়ে স্কুলটি তৈরি করায় কার্বন অনেক কম নির্গত হয়। ফলে স্কুল এবং স্কুলের আশেপাশের পরিবেশ তুলনামূলক অনেক ঠান্ডা। প্রাকৃতিক নিয়মে মরুভূমি রাতে ঠান্ডা এবং দিনে গরম হয়ে যায়। কিন্তু স্কুলের গঠন এমনভাবেই করা যাতে রাতের ঠান্ডা হাওয়া দিনভর স্কুলের ভিতরে আটকে থাকে। ফলে বাইরের থেকে অনেকটাই আলাদা স্কুলের ভিতরের তাপমাত্রা।

স্কুলের ভিতরের দেওয়াল চুন দিয়ে প্লাস্টার করা। এটিও ইনসুলেটরের কাজ করে। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ছাড়াই স্কুলের ভেতরের পরিবেশ তুলনামূলক ঠান্ডা রাখা যায়।

স্কুলটির বাইরের দিকের দেওয়ালে কোনও জানালা নেই। সমস্ত জানালাই ভেতরের মাঠের দিকে। তাই বাতাসের সঙ্গে বালি উড়ে স্কুলের ভেতরে ঢোকার উপায় নেই।

২০১৮ সালে স্কুল তৈরির কাজ শুরু হয়। ১ বছরের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ হয়ে যায়। এই স্কুলটিকে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়েছে।

তবে পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলেও স্কুলটিতে এখনও সেভাবে পড়াশোনা চালু করা যায়নি মহামারীর কারণে। চলতি বছরে শুরু করা যাবে বলেই আশাবাদী মাইকেল। সূত্র: আনন্দবাজার

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ