মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত 

আশুরার তাৎপর্য ও ফযীলত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

তরিকুল ইসলাম মুক্তার।।

আমাদের জীবন থেকে চলে গেল একটি বছর। শুরু হল একটি নতুন বছর। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। শব্দটি আরবী। যার আভিধানিক অর্থ সম্মানিত। পবিত্র ইসলামের আলোকিত বিশ্বাস ও বিধি বিধানকে আল্লাহর জমিনে পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাতৃভূমি পর্যন্ত ত্যাগ করেছিলেন, সহ্য করেছেন কত জুলুম নির্যাতন। পশ্চিমাকাশের মহররম চাঁদ ত্যাগ ও আদর্শের সেই বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিটি মুমিনের হৃদয় অনুভবে। অধিকন্তু পবিত্র এ মাস আলোকিত হয়েছে রাসুল সা. এর বরকতপূর্ণ- সিয়াম সাধনায়।

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- রমজানের পর সর্বাধিক ফযিলতপূর্ণ রোজা হল আল্লাহর মাস মহররমের। হাদিসে বর্ণিত মহররমের রোজাটি মূলত দশই মহররম তথা আশুরার রোজা। মহররমের মর্যাদা ও বরকতের উৎসও এ রোযাটিই।

হযরত আবু কাতাদাহ রাযি. এর বর্ণনায় আছে আশুরার রোজা সম্পর্কে রাসূল সা. কে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন- আশুরার রোজা বিগত বছরের পাপসমূহ মোচন করে দেয়।

আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল। নবী করিম সা. মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি সা. দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। রাসূল সা. তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলেন। জানতে পারলেন— এদিনে মুসা আ. সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।

মহানবী সা. বললেন, মুসা আ.-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ মহররম অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন। কারণ, ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যেন সাদৃশ্য না হয়। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজা রাখার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতীত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। (মুসলিম ও আবু দাউদ)।

আশুরায় দুটি রোজা রাখা সুন্নত। রোজা রাখার পদ্ধতি হল মহররমের নয় ও দশ তারিখ কিংবা দশ ও এগার তারিখ।

হজরত কাতাদা রা. হতে বর্ণিত রাসুলে আকরাম সা. বলেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ তাআলা এর অছিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী জামিয়াতুন নূর আল কাসেমীয়া উত্তরা, ঢাকা।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ