ড. মুফতি হুমায়ুন কবির: বর্তমানে কিছু মানুষ তারাবী ও তাহাজ্জুদের মাঝে পার্থক্য না করে তারাবীকে আট রাকাত দাবী করে থাকে। আহলে হাদিছের ইমাম উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী ও হানাফীদের আল্লামা কাশ্মীরি রমযানে তাহাজ্জুদ ও তারাবীকে এক মনে করেন। যা মূলত তাদের বুঝার ত্রুটি। তারাবী ও তাহাজ্জুদ এক নয়।
নিন্মেএর প্রমাণ তুলে ধরা হলো: ১. তাহাজ্জুদ প্রথমে ফরয ছিল পরে তা রহিত হয়ে গেছে। আর তারাবী তো কখনো ফরয ছিল না। বরং তা শুরুতেই সুন্নাত। বায়হাকী বর্ণনা করেন, “সালামা বিন আবদুর রহমান বলেন, তার পিতা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে রমযানে শ্রবণ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ রমযানের রোজা ফরয করেছেন ও আমি এর রাত্রি জাগরণ সুন্নাত করেছি। তাই যে রোজা রাখবে ঈমান ও পুণ্যের আশায় সে পাপ থেকে জন্মের সময়ের মত পরিষ্কার হবে।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিছ নং: ১৬৬০)। এর সনদ দূর্বল।
২. তাহাজ্জুদ তো কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করুন অতিরিক্তিভাবে; যাতে আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমুদে পৌঁছিয়ে দেন।” (ইসরা, আয়াত: ৭৯)।
আর তারাবী সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। বায়হাকী বর্ণনা করেন, “আবদুর রহমান বিন আউফ নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয় আল্লাহ রমযানের রোজা ফরয করেছেন। আর আমি রমযানের তারাবী সুন্নাত করেছি। তাই যে ঈমান, পুণ্য ও বিশ্বাস নিয়ে রোজা রাখবে তার জন্য পূর্বের পাপের কাফ্ফারা হবে।” (শুআবুল ঈমান, হাদিছ নং: ৩৩৪২)।
৩. তারাবী রাতের শুরুতে পড়া উত্তম। আর তাহাজ্জুদ শেষে পড়া উত্তম। ইমাম তিরমিযী ও আবু দাউদ বর্ণনা করেন, “হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত: আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে রোজা রাখলাম।
তিনি আমাদের সাথে নামাজ পড়লেন না। বাকী রইল মাসের সাত দিন। তখন তিনি আমাদের নিয়ে তারাবী পড়ালেন রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি পরদিন নামাজ পড়াননি। এর পরের দিন আবার তারাবী পড়ালেন অর্ধ রাত পর্যন্ত। তখন আমরা তাকে বললাম হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি আমাদের নিয়ে বাকী রাত নফল পড়াতেন।
তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে দাঁড়াল শেষ পর্যন্ত তাকে সারা রাত নামাজের পুণ্য দেওয়া হবে। অতঃপর তিনি আমাদের পড়ালেন না। মাসের তিনদিন বাকী রইল। তিনি আমাদের তৃতীয়বার নামাজ পড়ালেন তাতে তিনি তাঁর পরিবার ও বিবিদেরকেও শরীক করলেন। এত দীর্ঘ করলেন আমরা সেহেরী হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলাম। হাদিছটি হাসান ও সহিহ।” (তিরমিযী, হাদিছ নং: ৮০৬; আবু দাউদ, হাদিছ নং: ১৩৭৫)। তথা তিনি শ