মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে ইফা সড়কে প্রাণ গেল মেধাবী তরুণ আলেম মাহমুদ হাসান আরিফের স্বচ্ছতা বাড়াতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ডিজিটাল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের শঙ্কা! হারামাইনের সাউন্ড সিস্টেম বদলে দেওয়ার কারিগর তুর্কি প্রকৌশলী পাল্টে গেল দাখিল-আলিমের ‘সাধারণ শাখা’র নাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

ঈদের পর দেশব্যাপী জেলা পরিষদ নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া বাকি ৬১টি জেলা পরিষদ গত রোববার হঠাৎ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এখন নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে প্রশাসক বসানোর কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম প্রস্তাব করে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে জেলা পরিষদে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে গত সোমবার চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ঈদের আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঈদের পর নির্বাচন হবে। ফলে প্রশাসক হতে যেমন কেউ কেউ তদবির করছেন, অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদেও মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন অবস্থায় কেউ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ পাবেন না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসক নিয়োগের জন্য নামের তালিকা আসা শুরু হয়েছে। এসব নাম থেকে

প্রধানমন্ত্রী যাদের মনোনীত করবেন তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে প্রশাসকরা খুব বেশিদিন চেয়ারে বসার সুযোগ পাবেন না। কারণ ঈদের পরপরই হয়তো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনিতেও প্রশাসকের মেয়াদ কোনোভাবেই ১৮০ দিনের বেশি হবে না। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজে হাত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা পরিষদের ভোটার হলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর। জেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা প্রার্থী তারা ভোটার নন। অর্থাৎ, তারা নিজেরা নিজেদের ভোট দিতে পারেন না।

এদিকে গত রোববার হঠাৎ পরিষদ ভেঙে দেওয়ায় অনেক চেয়ারম্যানেরই মন খারাপ হয়েছে। কারণ তাদের নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কেমব্রিজ বিশ্বিবদ্যালয়ে জেলা পরিষদ সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল স্থানীয় সরকার। এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদনও দিয়েছিলেন। পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় চেয়ারম্যানরা ইউরোপ সফর থেকে বঞ্চিত হলেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) চালিয়ে নিচ্ছেন। তবে নতুন কোনো প্রকল্পের কাজে তারা হাত দিতে পারবেন না। মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া এবং প্রশাসনিক রুটিন কাজগুলোই দেখভাল করছেন বলে জানিয়েছেন একজন সিইও। এ পদে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিবরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা পরিষদ আইন-২০০০ অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিষদের দায়িত্ব অব্যাহত রাখার বিধান ছিল। তবে গত ৬ এপ্রিল সংসদে আইনটির সংশোধনী পাস হয়। এতে মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। জেলা পরিষদের পুরনো আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় একজন চেয়ারম্যান, ১৫ সদস্য ও ৫ নারী সদস্য মোট ২১ সদস্যের পরিষদ ছিল। ৬ এপ্রিল সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী জেলার প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যা) নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হবে। জেলার অন্তর্গত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জেলা পরিষদের ভোটার। পরিষদ গঠনের পর প্রথম সভার মেয়াদ থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে জেলা পরিষদ আইন-২০২২ এর ক্ষমতা বলে পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করবে সরকার।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ