বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


হাদিসের আলোকে আজান পরবর্তী ৪টি আমল ও তার ফযিলত!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাফেজ মাওলানা আব্দুল মাজীদ মামুন রাহমানী

মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ইসলামের সুন্দর guidance বা দিকনির্দেশনা। অনেক ভাইদের দেখা যায় আযানের পূর্বে দরুদ শরিফ পড়াকে urgent বা জরুরি মনে করে। যা শরীয়ত বিরোধী ও বিদআত। কুরআন-সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামদের আমল,চার মাযহাবের চার ইমামের কোন বক্তব্য, কোনটি দ্বারাই বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আর এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে প্রিয় নবী সা.এর প্রতি দরুদ পাঠ করা নিঃসন্দেহে বিরাট সওয়াবের কাজ। পাঠকারী বড়ই সৌভাগ্যবান। আর দিবা-রাত্রির যে কোন সময় তা পাঠ করা যায়। নিজের পক্ষ থেকে কোন সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করে ঐ সময়ে পড়াকে জরুরি মনে করার কোনো প্রয়োজন নেই।

হ্যাঁ, আযানের পর দরুদ শরিফ সহ ৪ টি আমল সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ পর্যায়ে আমরা সেই আমলগুলো তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।
১. দরুদ শরিফ পাঠ করা। হাদিস শরিফে এরশাদ হচ্ছে.
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا إلخ.

অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে আস রা.থেকে বর্ণিত তিনি প্রিয় নবী সা.কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুওয়ায্‌যিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার উপর দরুদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তাঁর উপর দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৩৫ ; আবু দাউদ, হাদিস:৫২৩।
২.দরুদ পাঠের পর আযান পরবর্তী প্রসিদ্ধ দু'আটি পাঠ করা।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏‏.‏
অর্থ: জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে (এই) দু’আ পড়বে اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ،

অর্থ: হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ সা.কে ওসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পোঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন। (প্রিয় নবী সা. বলেন) ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভের অধিকারী হবে। বুখারি, হাদিস নং- ৬১৪ ; মুসলিম, হাদিস নং- ৭৩৫।

৩.৪.কালিমায়ে শাহাদাত ও নিম্নোক্ত দুআ'টি পাঠ করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে...
عنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ: وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ "

অর্থাৎ সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মুয়ায্‌যিনকে (আযান দিতে) শোনে এবং তখন (আযানের পারে) কালিমায়ে শাহাদাত أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. পাঠ করে। যার অর্থ হচ্ছে...

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই এবং তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। মুহাম্মদ সা.তার বান্দা ও রাসূল। (তারপর এই বাক্যগুলো)رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا পড়বে। (যার অর্থ হচ্ছে) আমি স্বতস্ফূর্তভাবে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন, মুহাম্মদ সা.-কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।” (রাসূল সা. বলেন) তাঁর সকল (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
নাসাঈ, হাদিস নং- ৬৭৯।

লেখক ফাযেল জামিয়া রাহমানিয়া আযিযিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা মুতাখাচ্ছিছ ফি উলূমিল হাদিস মারকাযুদ দিরাসা আল-ইসলামিয়া, মিরপুর, ঢাকা

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ