মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

কাশিমপুর কারাগারে তিন বছরে বন্দির মৃত্যু ৭৭

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গত তিন বছরে ৭৭ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত জানুয়ারি মাসেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন প্রায় সাত হাজার। তাদের জন্য একটি ২০০ শয্যার হাসপাতাল ও তিনটি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেগুলোতে নেই স্থায়ী চিকিৎসক। যে কারণে গুরুতর অসুস্থ অনেক বন্দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর কারাগারসহ জেলার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে সেগুলোর বেশিভাগ ময়নাতদন্ত হয় তাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মাধ্যমে। সেখানে ২০২২ সালে ৬৩৪ জন, ২০২১ সালের ৬৮৫ জন, ২০২০ সালে ৫২০ জনের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের চারটি অংশের বন্দিদের মধ্যে ২০২২ সালে ২২ জন, ২০২১ সালের ২০ জন, ২০২০ সালে ২৯ জনের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সেই হিসাবে, গত তিন বছরে কারাগারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ কয়েদিদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদরোগে বা বুকে ব্যথায় মৃত্যু হয়েছে।

সবশেষ গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাইসিকিউরিটি কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক কয়েদি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কারারক্ষী রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুই সহকারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে কোনো বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কারাগারের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সেখানে জটিলতা বা রোগীর অবস্থা খারাপ হতে দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তারা আরও বলছেন, কাশিমপুর কারাগারে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। ওই হাসপাতালে বর্তমানে একজন বিডিএস ডেন্টাল চিকিৎসক নিয়মিত থাকেন। এছাড়া সপ্তাহের পাঁচদিন গাজীপুর সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কারাগারের চার অংশে তিন চিকিৎসক পালা করে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন।

এছাড়া ওই হাসপাতালে ছয়জন নার্স রয়েছেন, যা রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় খুবই কম। কারাগারের ২০০ শয্যা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যেত।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান শাফি মোহাইমেন জানান, কাশিমপুর কারাগারের মৃতদের ময়নাতদন্ত তাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। গত তিনবছরে ৭৭ বন্দির মৃত্যুর পর তাদের হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। যাদের ময়নাতদন্ত তারা করেছেন। এছাড়া কোনো রোগী যদি আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা অন্য সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন এবং সেখানে যদি কারও মৃত্যু হয় তবে সেই মরদেহের ময়নাতদন্ত ওই হাসপাতালে হয়ে থাকে।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান বলেন, কারাগারগুলোতে নিজস্ব জনবল দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু এখনো তা কার্যকর হয়নি। যার কারণে আমরা সপ্তাহে পাঁচদিন চিকিৎসক কারাগারে পাঠাচ্ছি। এছাড়া প্রতি দুই মাসে রোস্টারের মাধ্যমে গাজীপুরের কারাগারগুলোকে ৪৪ দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে।

কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, কয়েক বছর আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ছিল ভাঙাচোরা। প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হতো, এ কারণে ইমার্জেন্সি রোগীদের ওই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বেশ সময় লাগতো। যার কারণে পথিমধ্যেই অনেক রোগীর মৃত্যু হতো। এখন চান্দনা চৌরাস্তা ও গাজীপুর শহরের রেলক্রসিং ছাড়া তেমন কোনো যানজট নেই। যার কারণে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছি। এতে পথিমধ্যে অসুস্থ বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।

-এসআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ