শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৩ রজব ১৪৪৭


জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে মাহবুবুল উলামা শাইখুল মাশায়েখ হযরতুল আল্লাম মাওলানা পীর জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভাঙ্গাপ্রেস বেফাক অফিস সংলগ্ন জামিআ ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি, ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়ার সভাপতিত্বে ও  মহাসচিব মুফতী আ ফ ম আকরাম হুসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেছেন।

সভায় আলোচনা করেছেন, ওলামানগরের মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, খাদেমুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আজীজুর রহমান, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান আতীকি, আল মীকাত মাদরাসার মুহতামিম মুফতী সুলতান আহমদ, মাওলানা কবির আহমদ আড়াইহাজারী, জাতীয় ইমাম পরিষদ ঢাকা জেলা সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ বসন্তপুরী, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইদরীস, মুফতী ফারহান নাজীম প্রমুখ।

আলোচনায় সভায় ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া বলেন, হযরত পীর জুলফিকার নকশবন্দী রহ.ছিলেন ইলম ও ইরফান, তাকওয়া ও তাযকিয়ার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তাঁর ইন্তেকালে পুরো উম্মত একজন বিশুদ্ধ আকীদার আধ্যাত্মিক রাহবারকে হারাল।

তিনি বলেন, তাঁর ইলমি, রুহানী ও আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্তরে নব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত মুরিদ, মুহিব্বীন ও আত্মীয়স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

মহাসচিব মুফতী আ ফ ম আকরাম হুসাইন বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জাগতিক ও দ্বীনি—উভয় জ্ঞানের ধারক ও বাহক বানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেমন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তেমনি মাদরাসা থেকে হাফিয ও আলেম হয়েছেন। সেই সঙ্গে হয়েছেন উম্মাহর এক আধ্যাত্মিক রাহবার। একসময় উচ্চ বেতনে সরকারি চাকরিও করেছেন। ফলে দ্বীন ও দুনিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। যুগের ভাষায় কথা বলার কারণেই কোটি কোটি মানুষ তাঁর অনুরক্ত হয়েছে। একদিকে আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে, অপরদিকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বগণ তাঁকে একান্ত আপন ভেবেছেন। যাকে বলে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব—তাঁর জানাযায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। লক্ষ প্রাণ তাঁর জন্য অঝোরে কেঁদেছে। সারা পৃথিবীতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বক্তারা বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন, “মানুষের জানাযা দেখেই বোঝা যায়, সে ব্যক্তি হকের ওপর কতটা প্রতিষ্ঠিত ছিল।” আজ আমাদের মাঝে ব্যক্তি জুলফিকার আহমাদ আর বেঁচে নেই; শুধু আছে তাঁর অনুপম ব্যক্তিত্ব—যা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর অসংখ্য ভক্তবৃন্দ ও খলিফাদের মধ্যে।

মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর জিসমানি ও রুহানি সন্তানদের উত্তমরূপে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন। তাঁর লাগানো ও সাজানো দ্বীনি বাগান সংরক্ষণের তাওফিক দিন। আমাদেরকে তাঁর চিন্তা-চেতনা, ভাব ও ভাবনার ধারক-বাহক বানিয়ে দিন।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ