মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
৭ জেলায় পানিবন্দি দেড় লক্ষাধিক পরিবার, অর্ধশতাধিক নিহত আজও রাজশাহীতে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ ফের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ

জমি ভাগ-বাটোয়ারার জেরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ৩


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেঁটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাঁসুয়া এবং ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জনান।

আটকরা হলেন—নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে—সবুজ রানা (২৫) তিনি দুলাভাই আব্দুস সামাদের ছেলে, নিহত হাবিবের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। আমরা একটানা নিবিড় তদন্ত করে এই চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হই। তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় বলা হচ্ছে না।

তিনি আরও জনান, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে এবং এক ছেলে। এর মধ্যে এক ছেলেকে তিনি ১৩ বিঘা জমি লিখে দেন এবং প্রতি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এ নিয়ে মেয়েদের এবং জামাইদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ২০ এপ্রিল সবুজ এবং নিহত হাবিব ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। গরু কিনতে না পেরে সন্ধ্যার সময় চলে আসেন। তাদের মধ্যে আগে থেকে ক্ষোভ ছিল কীভাবে হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। হাবিব এবং তার বংশধরদেরকে যদি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোনেরা জমির মালিক হবে এবং নাতিরা লাভবান হবে।

পুলিশ সুপার জনান, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার নানার বাসায় সবুজ যান। সবুজ তার মামা হাবিব, মামি পপি এবং তার নানা মিলে সেদিন রাতে একই সঙ্গে খাবার খান। নিহতের ভাগ্নি সবুজ খাবার খেয়ে বাইরে একটি মাঠে চলে যান। সেখানে দুলাভাই শহিদুল ও তার ছেলে শাহিন ছিল। সেখানে গিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ছিল তারা নমিরের কাছ থেকে তার জমির দলিল নিয়ে আসবে এবং হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। পরিকল্পনা শেষে শাহিন ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সবুজ তখন তাদেরকে বলে- একটু পরে তারা ঘুমায়ে পড়বে তোমরা তখন চলে আসবে। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ এবং শাহিন মিলে হাবিবুরের ঘরে প্রবেশ করে। শাহিন হাবিবের ঘরে প্রবেশ করে বড় ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে। এরপর একে একে হাবিবের স্ত্রী এবং তার সন্তানদেরকে হত্যা করেন।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ