নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে ঘিরে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকটে পড়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে ঘিরে বিতর্কের জেরে শুধু দলীয় পদই নয়, সংসদ সদস্য পদও হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২২ জুলাই) দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিক টিম গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ কারণেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দল।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো অনৈতিকতা ও অপরাধের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নৈতিক প্রশ্নে কে এমপি থাকল বা না থাকল, সেটি আমাদের বিবেচ্য নয়। অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার বৈঠক রয়েছে। বৈঠক শেষে সংসদ সদস্যের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই তদন্তে বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দলের ভেতরেও চাপ তৈরি হয়। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেতারাও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও বিতর্ক এমন এক সময় সামনে এলো, যখন গত কয়েক মাসে জামায়াতের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক দলটিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
আইও/