নেত্রকোনা শহরের বড়বাজারের বাণিজ্যিক এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ টি দোকান ও ৩ টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি প্লাস্টিকের খেলনার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের দোকান ও ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সময় লাগে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে দোকানের মালামালের পাশাপাশি নগদ টাকা, ক্যাশ খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তাদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজারের একটি প্লাস্টিকের খেলনার দোকান থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে প্রথমে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বারহাট্টা, পূর্বধলা ও মোহনগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। মোট ১০টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে সহযোগিতা করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ী উত্তম মজুমদারের ‘মজুমদার ইলেকট্রনিক্স’-এর তিনটি দোকান, ‘আরিফ স্টোর’সহ পাঁচটি দোকান এবং তিনটি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে দীর্ঘ সময় কাজ করে রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
এদিকে, শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, অগ্নিকাণ্ডে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন প্রায় নিঃস্ব। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ফায়ার সার্ভিস। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, জনবহুল এ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
আইও/