এস এম মাহাদী হাসান
মাদরাসাতুল সাওলাতীয়া। স্থাপিত সাল ১২৯৩। মক্কা কাকিয়ায় অবস্থিত এই মাদরাসাটির আগের অবস্থান ছিল জাবালে কাবার সামনেই। অল্প কিছু বছর আগে এটি স্থান পরিবর্তিত হয়। জানেন কি বিশেষত্ব এই মাদরাসার? পুরো আরবের মধ্যে এটাই প্রথম কওমি মাদরাসা এবং বহুকাল পর্যন্ত এটাই একমাত্র ছিল। এবং যার সূচনা ছিল মহীয়সী এক বাঙালি রমণীর হাতে। বেগম সাওলাতুন্নিসা। রহিমাহুল্লাহ।
এ-যাবৎ জানা তথ্য অনুযায়ী, বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম হজ পালন করার সৌভাগ্য অর্জন করেন বেগম সাওলাতুন্নিসা। ১৮৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার ভাসলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র নানী। স্বামী জমিদার মুন্সী লতাফৎ হোসেন মৃত্যুর আগে তাঁর নামে জমিদারি লিখে দেন। এরপর তিনি নিজেই কলকাতা, ২৪ পরগনা ও নদীয়ার বিভিন্ন এলাকায় কাছারি স্থাপন করে দক্ষতার সঙ্গে জমিদারি পরিচালনা করেন। ১৮৭৫ সালে নাবালক পুত্র, বিবাহিত কন্যা, জামাতা ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে তিনি হজের উদ্দেশ্যে রওনা হন—সম্রাট বাবরের কন্যা গুলবদন বেগমের হজযাত্রার প্রায় ৩০০ বছর পর আরেক বাঙালি মুসলিম নারী পরিবারসহ সেই সৌভাগ্য অর্জন করেন।
হজ সম্পন্ন করার পর তিনি মক্কায় বসবাসরত আলেম মাওলানা মুহম্মদ রহমতুল্লাহকে ৩০ হাজার টাকা দান করেন একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মাদরাসায়ে সাওলাতিয়া হিন্দিয়া’।
দেশে ফিরে এসেও তিনি মাদরাসাটির জন্য নিজের জমিদারির আয় থেকে নিয়মিত বাৎসরিক অর্থ বরাদ্দ রাখেন। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি একবার নয়, আলাদাভাবে ছয়বার হজ পালন করেন—যা আজও বিরল, আর দেড়শ বছর আগে একজন বাঙালি মুসলিম নারীর জন্য ছিল অবিশ্বাস্য সাহসিকতার পরিচয়। পরে ১৯৫৫ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হজে গিয়ে তাঁর নানীর প্রতিষ্ঠিত সেই মাদরাসা পরিদর্শন করেন।
এবং শুনলে আরও আশ্চর্য হবেন যে, মক্কার উম্মুল কুরা থেকে হারামাইনের ইমামদের অনেকেই এই মাদরাসার ফারেগ। এবং একটা সময়ে এই মাদরাসা কেন্দ্র করে আরবে প্রচুর চ্যারিটি কাজও করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে আমাদের শাইখ খুঁজে খুঁজে মাদরাসার নতুন লোকেশন বের করেছেন। অত্যন্ত উৎসাহের সাথে জিয়ারা তে এসেছেন সাথীদের নিয়ে। সাথে ছিলেন প্রিয় বড় ভাই এবং উস্তাদ মুহাম্মদ আবু জাফর ভাই। যার সান্নিধ্যে সফর হয়ে গেছে আরও মধুর। মক্কার প্রায় প্রতিটা অলিগলিতে যার পদচারণা বহুদিনের।
উমরাহ সফর বরকতময়, যদি সাথী নির্বাচন করেন বেছে বেছে, ব্যবসার হিসাব সরিয়ে রেখে। এটা নিয়ে আরেকদিন লিখবো। ইনশাআল্লাহ্।
লেখক: সিইও, হারামাইন ড্রিমস
আরএইচ/