শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


বিনয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতী মাহমুদুল হক বিন সলিমুল্লাহ ||

উলামায়ে কেরামের মধ্যে যাঁর বিনয়-নম্রতা কিংবদন্তিতুল্য তাঁদের অন্যতম হলেন যাত্রাবাড়ী জামিয়ার প্রধান মুফতী, উলূমুল হাদীস বিভাগের প্রধান ও ছানী শাইখুল হাদীস হযরত মুফতী মাহমুদুল হাসান জামশেদ হাফিজাহুল্লাহ। সাদাসিধে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে উপমাতুল্য ব্যক্তিত্ব, তেমন উজ্জ্বল সাদা সুতির কাপড়ও পরেন না, সাধারণত পরেন রঙিন কোনো কালারের জামা।

যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় হুজুরের অনেক আলোচনা, সুনাম-সুখ্যাতি শুনেছি; কিন্তু সরাসরি দেখার বা দরসে বসার তৌফিক হয় মিশকাতের বছর। নুখবাতুল ফিকারের বিকল্প হিসেবে হুজুর নিজের লিখিত 'ইরশাদুল আখিয়ার' দরস দিতেন। শায়খে যাত্রাবাড়ী আল্লামা মাহমুদুল হাসান হাফিজাহুল্লাহ-এর অনেক তামান্না ছিল নুখবাতুল ফিকারের বিকল্প হিসেবে এই মানের একটা বই হানাফী কোনো আলেম লিখুক; তাঁর সেই তামান্না বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন হযরতুল ওস্তাদ মুফতী মাহমুদুল হাসান জামশেদ হাফিজাহুল্লাহ।

হুজুরকে প্রথম দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারিনি। আমার কল্পনায় ছিল, তিনি হয়তো ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ, পোশাক-আশাকে কেতাদুরস্ত কোনো আলেম হবেন। তিনি দরসে আসলেন, বিনীতভাবে হাঁটু গেড়ে বসলেন, সলজ্জ মুচকি হাসিতে যেন মুক্তা বর্ষিত করলেন। আমি তাকিয়ে থাকলাম, মুগ্ধ হলাম, বিস্ময়াভিভূত হলাম। দরস শেষ হবার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত সাথীদের সাথে তাঁর প্রতি মুগ্ধতা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলাম।

এরপর মুফতী মাহমুদুল হাসান জামশেদ হাফিজাহুল্লাহ হুজুরের কাছে দাওরায় মুসলিম প্রথম খণ্ড পড়ার তৌফিক হয়। তাৎক্ষণিক ও উপস্থিত যেকোনো বিষয়ের জুতসই ও উপযুক্ত উপমা প্রদানে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ইফতায় আমরা হুজুরকে পেয়েছি।

কিছুদিন আগে যখন হুজুরের সাক্ষাতে গেলাম, তিনি দাঁড়িয়েই আমার সাথে কথা বলতে লাগলেন; কোনো ভাব নাই, ভঙ্গিমা নাই, লৌকিকতা নাই। হুজুরের আচরণ ও ব্যবহার, ইলমি যোগ্যতা ও মাকাম দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনে পড়ে একটি কবিতা—

এরাই মোদের পূর্বসূরী
এদের নিয়েই গর্ব করি,
ওহে জারির বিশ্ব সভায়
দেখাও দেখি তাদের জুড়ি।

মুফতী মাহমুদুল হাসান জামশেদ হাফিজাহুল্লাহ পাকিস্তানের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ায় পড়াশোনা করেছেন। শায়খে যাত্রাবাড়ীর পরে তিনি বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে এসেছেন।

আল্লাহ তায়ালা হুজুরের ছায়া আমাদের উপর সুদীর্ঘ করুন, তাঁর স্নেহ ও নেক নজর আমার উপর অবিরত রাখুন।

লেখক: সাবেক মুহাদ্দিস, আল জামিয়াতুল আরাবিয়া কাসেমুল উলুম রহমতপাড়া মাগুরা।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ