সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


এতিম ও গরিবের হক নিয়ে মুনাফার লড়াই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

chamraওবায়দুর রহমান

এবারো কুরবানি ঈদে কাঁচা চামড়ার বাজারের চিত্র একই ধরনের দেখা গেছে। ঈদ এবং এরপরের তিন দিন চামড়ার বড় আড়ত পোস্তায় দেখা গেছে বিপুল ব্যস্ততা। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। একই অভিযোগ ঢাকার বাইরে থেকে আসা পাইকারদের। ফলে এবার চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ী ও পাইকাররা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেনা। তারা বলছেন, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে।

 

তবে ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, চামড়ার দরপতনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এর হকদার গরিব ও এতিমরা। এ দেশে আবহমানকাল থেকে কুরবানির চামড়া বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার রেওয়াজ রয়েছে। এসব চামড়া সংগ্রহ করে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে দেশের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে থাকে। চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে এসব মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রায় ছয় মাসের খরচ নির্বাহ করা যায়। তবে প্রতিবছর চামড়ার দাম কমার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। ফলে তাদের এসব অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খেতে হয়।

কুমিল্লার মুরাদনগরের জামেয়া ইসলামিয়া মোজাফফারুল উলুম মাদ্রাসার খাদেম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদউল্লাহ বলেন, চামড়ার দাম কমলে ফড়িয়া, আড়তদার, ট্যানারি মালিক তথা কুরবানিদাতা নয়; গরিব-দুস্থ মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্টে ভোগে। কুরবানির পশুর চামড়ার বিক্রয় করা টাকা ছহীহ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা ও গরিব-দুস্থদের দান করাটাই নিয়ম। কুরবানির চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক খরচের একটি বড় অংশ নির্বাহ করা হয়। কিন্তু চামড়ার দাম প্রতিবছর কমতে থাকায় প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করি। ঢাকা এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার খাদেমদের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার আশায় পরিকল্পিতভাবে চামড়ার দাম কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ও চাহিদা কমার অজুহাত তুলে কুরবানির পশুর চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করছেন ট্যানারি মালিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়