আওয়ার ইসলাম: বর্তমানে মিয়ানমার একটি আধুনিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই আধুনিক মিয়ানমারের যেখানে রাখাইন রাজ্য অবস্থিত ঠিক সেখানেই অষ্টম শতাব্দীতে ‘আরাকান রাজ্য’ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ ছিল।
আর এ রাজ্যেই ছিল রোহিঙ্গাদের বাস। রোহিঙ্গারা জাতিতে মুসলমান। আর রাজ্য হিসেবে আরাকান ছিল বেশ সমৃদ্ধ।
কালক্রমে রোহিঙ্গারা রাজ্য হারিয়ে একটি সংখ্যালঘু জাতিতে পরিণত হয়। তারপর ইতিহাসের ধারায় বিভিন্ন সময়ে তারা অত্যাচারিত হতে থাকে। মিয়ানমারের পূর্ব নাম বার্মা। ১৯৮৯ সালে বার্মা নাম পরিবর্তন করে মিয়ানমার হয়। মিয়ানমার মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ অধ্যুষিত। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজ সরকারের প্রচণ্ড অত্যাচারের কারণে ১৭৮৪ সাল থেকে শুরু করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছে।
২০১৬ সালের আগে ধারাবাহিকভাবে ১৯৪২ সালে, ১৯৭৭-১৯৯১, ২০১২ এবং এখন থেকে দুই বছর আগেও রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়। অসংখ্য রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় অসংখ্য নারীকে। ২০১৬ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সরাসরি রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। হত্যা করে বহু রোহিঙ্গাকে। নিপীড়ন চালাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অংশ নেয় বৌদ্ধ সন্যাসীরা। এভাবে মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার-নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ ও চীনে বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়।
বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে এসে বর্তমান বাংলাদেশে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশ্বব্যাপী ১৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করছে। ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখনও মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্যকরে দেশটিতে রয়েছে।
সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার-নিপীড়ন তা প্রায় সারা বিশ্বই প্রত্যক্ষ করেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন এটাকে জাতিগত গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। রোহিঙ্গারা শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে ধারাবাহিকভাবে জাতিগত নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন এবং বিশ্ব দরবারে তাদের এ সমস্যা তুলে ধরারও কেউ নেই। আর এ কারণেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকার রোহিঙ্গাদের রয়েছে। রোহিঙ্গাদের সমর্থন দেà