ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলোক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার বাড়ি ও সফু সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ৩০ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর সফু সরকারের পক্ষের লোকজন এলাকাছাড়া ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এরই মধ্যে সোমবার ভোরে সফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন নরসিংদী থেকে লোকজন নিয়ে এলাকায় আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া হামলা ও সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ককটেল ও একটি দেশীয় বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে ভোরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলি, ককটেল ও একটি দেশীয় বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
আইও/