সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


দূরে ওই পাহাড় মিশেছে নীলে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
দেওবন্দ, ইন্ডিয়া থেকে

munshi_azmirট্রেনে ফুরফুরে মনে
বহুদিন বাদে ছুটছি আজমির শরিফ৷ দেখার ইচ্ছে আবারও হজরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি রহ.-এর মাজার৷ ঘুরবো রাজিস্তান৷ গড়বো পাহাড়েঘেরা জনবসতির সঙ্গে বন্ধুত্ব-মিতালি৷ চড়বো উটের পিঠে৷ প্রেমখেলায় মাতবো পৃথিবীখ্যাত সাঙ্গে মর্মর পাথরে পাথরে৷

দেওবন্দ টু উত্তরাখাণ্ড পৌঁছুলাম বাদ আসর৷ রিজার্ভেশনে চড়েছি এইতো ঘণ্টা দেড়েক হলো৷ বসে রয়েছি এখন সিটে৷ মায়ের সঙ্গে আলাপ হলো টানা মিনিট বিশেক৷ দোপাট্টা, জায়নামাজ নিয়ে আসতে বললেন তিনি৷ ছোটভাইয়ের সঙ্গে কথা বললাম দু'চারটে৷ লালসূতো আনার কথা জানালাম মজা করে৷ খুশির হাসি হাসলো অকপটে৷ ট্রেন ছুটছে বেশ গতিতে৷ সকাল দশটে নাগাদ পৌঁছুবো হয়তো বা৷ ‘পুরো সফর নিয়ে লেখার ইচ্ছে রয়েছে অভিনব কিছু৷ সুস্থতার জন্য বিশেষ মোনাজাতে সঙ্গে রাখুন৷ ঠিকঠাক সব দেখে-জেনে ফিরতে পারি যেনো মহামহিমের অশেষ রহমে, সালামতে৷' প্রার্থনা ও লেখার আবদার রাখলাম বন্ধুদের৷ শেষমেষ রাতটি ভর কাটালাম হুল্লোড়ে, আনন্দে৷

খাজার দরবারে
ভোর সাড়ে ন'টায় নামলাম ট্রেন থেকে৷ আজমির জংশন থেকে রিকশায় চড়ে হাজির হলাম সোজা দরগাহ রোডে৷ দরবারের কিছুটা দূরেই নামিয়ে দিলো ড্রাইভার৷ সামনের পথ পায়ে হাঁটার, বুঝে নিলাম আপনাতেই৷ হাজারো ভিড় দেখলাম সকাল হতে না হতেই৷ হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খৃস্টান, নরনারী, ধনী-গরিব, ভাষাবর্ণের ভেদাভেদ নেই কোনো৷ নেই পোশাক-পরিচ্ছদেরও তফাৎ৷ তবে দেওবন্দি পোশাকে সংকোচ এদের, এমনটা জানা ছিলো আগে৷ সামনে এগোতেই সেই সংশয়ও দূর হতে লাগলো৷ সতর্কতাবলম্বন হিসেবে কৌশল গ্রহণ করলাম একটি৷ হাতে পরলাম লালসূতো৷ গলায়ও বাঁধলাম মালার মতো একটি৷ মাত্র দশ রুপিতে মিললো পাঁচটে সূতো৷ রাস্তার দু'পাশে বাহারি চুড়ির দোকান চোখে পড়লো৷ ইচ্ছে হচ্ছিলো ওগুলোও পরে নিই৷ তাতে কৌশলটা আরও মাত্রাতিরিক্ত হতো৷ পরা হয়নি৷ কিন্তু ভেতরে গিয়ে মনে হলো, নাহ! পরা দরকার ছিলো৷

আমাদের সুফিজমের চারটে প্রসিদ্ধ সিলসিলা৷ যাকে ‘হক্কানি পীর-মুরিদির ধারা' বলে৷ সেই চারটের অন্যতম একটি ‘চিশতিয়া'ধারা৷ যার মূল হলেন এই হজরত পীর খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি রহ.৷ তিনি তো আগাগোড়া ছিলেন শুদ্ধমানব৷ কিন্তু মুসলমান নামধারী আজ কিছু লোক অর্থ কামাইয়ের বাহারি ফন্দি এঁটেছে তাঁর কবর ঘিরে৷ যাকে তারা নাম দিয়েছে ‘আজমির শরিফ'৷

হজরত যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো এই প্রতিটা না-মর্দের গালে সজোরে চড় কষতেন৷ ভণ্ডাà