বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮


ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে ফিরিশতার প্রতি বিশ্বাস 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মুহাম্মাদ রাশিদুল হক

দুনিয়ার সকল ধর্মমতেই বিশেষত গ্রিক দর্শনেও ফিরিস্তাদের অস্তিত্ব স্বীকৃত। সাবিয়ি ধর্মমতে এ শ্রেণির মাখলূককে তারকাপূঞ্জ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। তারা ফিরিশতাদের উদ্দেশ্যে কুরবানিও দিত। তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করত। তাদের মনে করত দৃশ্যমান প্রভু বা ‘খোদার প্রকাশ’। ইউনানি মিশরি (ইসকান্দরি) দর্শনে তাদের নাম ‘উকূলে আশারা’ (দশ বুদ্ধি)। আর পার্শিয়ানরা ফিরিশতাদেরকে বলত ‘ইমশাস পান্দ’।

তাদের ধারণামতে ফিরিশতাদের সংখ্যা অগণিত। পার্শিয়ানরা ফিরিশতাদেরকে পূজা-অর্চনার যোগ্য বলে মনে করত। তাদের ধর্মমতে সর্বাধিক মর্যাদাবান ফিরিশতা হলেন ছয়জন। তাদের প্রত্যেকের অধীনে রয়েছে তেত্রিশজন করে ফিরিশতা। পার্শিয়ানদের ধর্মমতে ভালো-মন্দের প্রভু একজন নয়; দুজন। তাদের প্রত্যেকের অধীনে রয়েছে অসংখ্য ফিরিশতা। এ দু’শ্রেণির প্রভু নিজ নিজ সৈন্য-সামন্তসহ সর্বদাই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। এমনিভাবে তারা ফিরিশতাদের মধ্যে নর-নারীর অস্তিত্বও স্বীকার করে। বলে, নারী ফিরিশতা নর ফিরিশতার স্ত্রী।

ইহুদি জাতি ফিরিশতাদের করভীম বলে। বিশিষ্ট ফিরিশতাদেরকে জিব্রাঈল, মীকাঈল ইত্যাদি নামে অভিহিত করে। তারা সম্মান-মর্যাদায় মস্তক অবনত করে তাদেরকে এমনভাবে আহ্বান করে যেমনটি করা কর্তব্য কেবল আল্লাহর শানে। খ্রিষ্টান জাতিও ফিরিশতাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে। বিশেষ বিশেষ ফিরিশতাকে জিব্রাঈল রূহুলকুদ্স ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করে।

হিন্দু ধর্মে ফিরিশতাদের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট ধারণা রয়েছে। জাহিলি যুগের পূর্বে আরবরা ফিরিশতাদের আল্লাহর কন্যা বলত। তাদের পূজা-অর্চনা করত। আরো মনে করত, তারা আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য সুপারিশ করবে।

ইসলাম ফিরিশতাদের সম্বন্ধে এ সকল মতাদর্শকে ভ্রান্ত ধারণা ও অসার ঘোষণা করেছে। এসবের মূলোচ্ছেদনে কুরআন মাজিদের বহু আয়াত নাযিল হয়েছে। প্রমাণ করা হয়েছে, প্রভুত্বের কোনো গুণ ফিরিশতাদের মধ্যে নেই। তারা আল্লাহ তায়ালার বান্দা। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের একমাত্র কাজ। তার নির্দেশের বাইরে পৃথিবীতে কোনো রূপ হস্তক্ষেপের অধিকার তাদের নেই। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগি ও পূজা-অর্চনা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়েয।

ফিরিশতা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ ‘মালায়িà