এ এস এম মাহমুদ হাসান
বিশেষ প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম
চলতি জুনের ৫ তারিখে কাতারের উপর সৌদি জোটের একাংশ বয়কটের ঘোষণা দিলে শুরুতে এই বয়কটকে সাময়িক মনে হলেও ধীরে ধীরে এ বয়কট বৈশ্বিক রাজনীতিকেই পাল্টে ফেলছে। কাতারের উপর সন্ত্রাসী লালনের তকমা দিয়ে শুরু করা সৌদির এ অসহিষ্ণু বয়কটকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিশ্ব মুসলিমের বড় একটি অংশ। এমনকি এতদিন সৌদি যাদের ঘরোয়া মিত্র মনে করত, তারাও সৌদির এ অপরিণামদর্শী বয়কটের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে এ বয়কটে শরীক হওয়ার আহবান জানালেও মূলত উপসাগরীয় মাত্র ৪টি দেশ ছাড়া সৌদির ডাকে সাড়া দেয়নি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারকে এ অবরোধের মাধ্যমে মূলত সৌদি জোটই ক্ষতিগ্রস্থ হলো বেশি। মুসলিম বিশ্বে এ বয়কটের কারণে সৌদি জোটের প্রতি খারাপ ধারণা জন্ম নিয়ছে। বিশেষ করে একটি সার্বভৌমে দেশকে ১৩ দফার যে লিস্ট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা সৌদি জোটকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে ফেলবে। কেননা একটি স্বাধীন দেশকে কোনো ভাবেই ১৩ দফার ১ দফাও চাপিয়ে দেওয়ার কোনো রাষ্ট্রের নৈতিক অধিকার নেই। এদের শর্তগুলো দেখলে মনে হবে সৌদিজোট এই যুগে নয়; বরং মধ্যযুগে বসবাস করছে, যখন ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো গায়ের জোরে তাদের ইচ্ছা আরেক দেশের উপর চাপিয়ে দিতো। কাতারকে শর্ত দেয়া হয়েছে, এ ১৩ শর্ত গোপন রাখতে হবে। কিন্তু কাতার যখন সেগুলো ফাঁস করে দেয় তখন আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, কাতার আমাদের দাবিগুলো ফাঁস করে মূলত সংকট সমাধানের পথকেই রুদ্ধ করে দিলো। এ থেকে স্পষ্ট, সৌদিজোটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য বিপ্লবের ভয় এখনো কাটেনি।
যখন মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ইরান, রাশিয়া জোটের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আর মার্কিন মূলুকের নেতৃত্বে সৌদিজোটের ক্ষমতার অপব্যবহারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই আগুনের কারাগারে রূপান্তর হয়েছে। ঠিক তখনি উদার ভাবাপন্ন মুসলিম রাষ্ট্র কাতারকে বয়কটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের লেলিহান শিখাকে উষ্কে দেওয়ার অভিযোগ শুধু সৌদিজোটের বিরুদ্ধে নয়, এ অভিযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলাইলের উপরও।
রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে প্রাসাদ ক্যু এর মাধ্যমে বিন নায়েফকে সরিয়ে দেয়ায় এটি আরà§