লাবীব আবদুল্লাহ : আমি তখন একটি কওমি মাদরাসার নাযেমে দারুল ইকামা৷ এই পদে ছিলাম এক যুগ৷ সাথে দায়িত্ব ছিলো নাযেমে তালিমাতেরও৷ এই পদে দুই যুগের উপরে৷ দায়িত্বের সূত্রে অভিভাবকগণ আমার কাছে ছেলেদের সমস্যাগুলো বলেন এবং প্রয়োজনে পরামর্শ নেন৷ আমি আমার মতো করে সুপরামর্শ দেবার চেষ্টা করি৷ ইচ্ছে করে কুপরামর্শ দেই নি কখনও৷
এক শায়খুল হাদীস সাহেব এলেন একবার৷ ছেলে চরম সব কিছুতেই৷ আমার কামরায় রাখতে বললেন৷ আমি আমার কামরায় তালেবে ইলম রাখা পছন্দ করি না৷ আমার উস্তায বলেছিলেন তালেবে ইলম থেকে কোনো খেদমত না নেয়া৷ আমি তখন মাদরাসার বড় এক কামরায় একা থাকি এবং আমার ছিলো অনেক বই নানা বিষয়ের৷
দারুল উলুম দেওবন্দ বহু আগ থেকেই কারিগরি শিক্ষা দিয়ে আসছে: মুফতি জহির ইবনে মুসলিম
তবে সেই তালেবে ইলমের প্রতি বিশেষ নেগরানির জিম্মাদারি নিলাম৷ ছেলে দরসে ঠিক মতো থাকে না৷ থাকলেও পড়ে না৷ একদিন ডেকে বললাম, তোমার কী ভালো লাগে?
- পড়া ভালো লাগে না, মোবাইল ভাঙ্গা ভালো লাগে৷ ভালো লাগে কম্পিউটারে কী আছে তা ভেঙ্গে দেখা আমি তাকে পড়ালেখার যত ওয়াজ নসিহত করলাম সব ব্যর্থ হলো৷
একদিন সে সামানপত্র নিয়ে পালিয়ে গেলো৷ ছেলেটির নাম শাকির৷
দুই.
দরসে একটি হাফেয ছেলে৷ মেধাবী৷ কম কথা বলে৷ তবে ক্লাসে ভালো পড়ালেখা পারে কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া সে পড়ে না৷ হেদায়েতুন্নাহু পড়ে৷ আমি আরবী সাহিত্যে পড়াই৷ ছেলেটি দরসে অমনোযোগী হয়েও পরীক্ষায় মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকে৷ মুখে সবসময় হাসি হাসি ভাব৷ মিষ্টি চেহারা তার৷ বাড়তি কোনে বই পড়তে বললে সে বলল, আমার পড়তে ভালো লাগে না৷ - তোমার কী করতে ভালো লাগে?
- যন্ত্রের ভেতরে কী আছে তা দেখতে ভালো লাগে৷ মন চায় ইঞ্জিনিয়ার অইতাম৷ ছেলেটি বার্ষিক পরীক্ষা না দিয়ে চলে গেলো এবং মাদরাসায় এলো না৷
ধরে নিলাম ছেলেটি সাজিদ৷
কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ: এটুআই ও ইকরার চুক্তিসই
তিন.
ঈদের আগে আমি জামা কাপড় বানাতে আগ্রহী নই৷ দর্জিরা কাজ নিতে চায় না শেষ মুহূর্তে৷ আমার ঘরের বে