সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর
অতিথি লেখক, আওয়ার ইসলাম
‘দুর্গম পথ পেরিয়ে আমরা হোয়াইক্যং সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় চলে গেলাম। এদিক দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করার জন্য অপেক্ষা করছিলো। তারা ক্ষুধার্ত, পীপাসার্ত হয়ে কাতরাচ্ছিলো।
তাদের দেখে আমরা বিস্কুট এবং পানি নিয়ে সীমান্তের দিকে এগিয়ে গেলাম। যদিও এ কাজটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো, কিন্তু মজলুম মানুষের চিৎকার কানে আসার নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। পানির বোতল দেখে তারা ‘পানি পানি...’ বলে মুখ হা করে আমাদের ডাকছিলো।
তাদের শীর্ণ চিৎকার শুনেই বুঝতে পারছিলাম তারা কয়েকদিনের অভুক্ত, হয়তো পেটে দু-এক ঢোক পানিও পড়েনি। তাদের কাছে গিয়ে আমরা তাদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম। বিস্কুট খাইয়ে দিচ্ছিলাম। এটুকু সামান্য পানি আর বিস্কুট পেয়েই আনন্দে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। তাদের কান্না দেখে আমরাও কাঁদছিলাম।
এইটুকু সামান্য সাহায্য দিয়ে যে কারো মুখে এমন হাসি ফোটানো যায়, জীবনেও কখনো ভাবিনি। সবকিছু ছেড়ে আসা অসহায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর ওই মুহূর্তের আনন্দানুভূতি প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই। শুধু বলবো, এটা ছিলো আমার পঁয়ত্রিশ বছর জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। জীবনে আর কোনো কিছুতে এতোটা আনন্দ পাইনি।’

প্রবেশ মুখেই শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা
মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সম্পাদক বগুড়ার মুফতি সালাহুদ্দীন মাসউদ। খুব সামান্য সাধ আর সাধ্য নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র দেখতে গিয়েছিলেন গত এক সপ্তাহ আগে। কিন্তু সেখানে গিয়ে বাস্তবতার যে ভয়াবহ ছায়াছবি নিজের চোখের সামনে ঘটতে দেখলেন, তা ছিলো তার ভাবনার অতীত।
গিয়েছিলেন সরেজমিনে শরণার্থীদের দুর্দশা দেখতে, কিন্তু লক্ষ মানুষের গগনবিদারী আর্তনাদ আর হাহাকার মুহূর্তে তাঁকে বানিয়ে ফেলেছিলো একজন আত্মদানে দুঃসাহসী এক যোদ্ধা। তিনি সেই যুদ্ধের একজন দুঃসাহসী সৈনিক।
গতকাল দুপুরে যখন তাঁকে ফোন দিলাম, মনে হলো অনেক ব্যস্ত। গলার আওয়াজ শুনে বুঝা যাচ্ছিলো, ক্লান্তি তাঁকে ঘিরে ধরেছে। জিজ্ঞেস করলাম- ‘কী করছিস দোস্ত? ব্যস্ত নাকি?’
শারীরিক ক্লান্তি একদিকে সরিয়ে রেখে জোরালো কণ্ঠে বললো, ‘টেকনাফ থেকে এলাম দু’দিন হলো। তিন-চারদিন পর আবার যাচ্ছি। তবে এবার যথেষà§