সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


যে কারণে ইরাক থেকে কুর্দিস্তানকে আলাদা করতে চাইছেন বারাজানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে গত দু'দিন ধরে যখন ব্যাপক পরস্পর বিরোধী খবর আসছে তখন ওই এলাকার প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি গণভোট সম্পন্ন করার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

মাসুদ বারাজানি গত ৭ জুন ইরাক থেকে কুর্দিস্তানকে আলাদা করার জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন।

কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট কেন ওই এলাকাকে আলাদা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন সেটাই এখন সবার প্রশ্ন।

গত এক সপ্তাহে চারটি স্তরে অর্থাৎ কুর্দিস্তান এলাকা, সমগ্র ইরাকে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণভোটের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত দেখা দিয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নে আয়োজিত কুর্দিস্তানের গণভোটকে আগুন নিয়ে খেলা বলে মন্তব্য করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাদি সাইদ আফকাহি কুর্দিস্তানের গণভোটকে আগুন নিয়ে খেলার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, বারাজানি এমন এক বৃহৎ খেলায় লিপ্ত হয়েছেন যা তার ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানায় না। এ অবস্থায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আগেই কেন তিনি এ ধ্বংসাত্মক খেলা বন্ধ করছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাসুদ বারাজানি কুর্দিস্তান প্রদেশকে ইরাক থেকে আলাদা করার মাধ্যমে তিনটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছেন।

প্রথমত, তিনি কুর্দিদেরকে এ অঞ্চলে বীর জাতি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এ অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি এটাও প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, বেআইনিভাবে কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্টের পদ হস্তগত করা এবং গত চার বছরে তার পদত্যাগ না করার পেছনে যৌক্তিক কারণ ছিল। এখন এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে কুর্দিস্তানকে ইরাক থেকে আলাদা করা প্রশ্নে গণভোটে স্থানীয় জনগণ হয়তো ইতিবাচক ভোট দেবে কিন্তু ভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

তারপরও মাসুদ বারাজানি কুর্দিস্তানকে আলাদা করার চেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে কুর্দি জাতির ইতিহাসে অমর করে রাখতে চাইছেন।

কুর্দিস্তানকে ইরাক থেকে আলাদা করার পেছনে মাসুদ বারাà