আবরার আবদুল্লাহ : বাংলাদেশের মানুষ মনে করে সরকার নির্বাচন পদ্ধতি গণতান্ত্রিক হওয়া উচিৎ এবং শাসন ব্যবস্থা শরিয়াহ ভিত্তিক। মানুষ গণতন্ত্র সমর্থন করে কিন্তু তারা মনে করে সুশাসনের জন্য শরিয়াহ আইন প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিজলভ নেটওয়ার্ক-এর এক প্রতিবেদনে এমনটি প্রকাশ পেয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, ৯১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি মর্মবস্তু হচ্ছে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব। তবে ৮০ শতাংশের বেশি মনে করেন, শরিয়াহ আইন মৌলিক সেবা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করে।
এ দুটি মতামতের আলোকে গবেষকগণ মনে করেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শরিয়াহ আইন একই সঙ্গে থাকতে পারে বলে মানুষ মনে করছে।
এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড শরিয়াহ ইন বাংলাদেশ: সার্ভেইং সাপোর্ট’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রিজলভ নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রবন্ধটি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিকস অ্যান্ড গভর্নমেন্টের অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী সৈয়দা সেলিনা আজিজ।

জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সম্পত্তির অধিকার, নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশ ও সম্মিলনের স্বাধীনতার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ৯২ শতাংশ উত্তরদাতা ব্যক্তির সম্পত্তির অধিকারকে সমর্থন করেন। ৯১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব। ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন।
উত্তরদাতারা বাকস্বাধীনতা (৭৬ শতাংশ) ও সংগঠন করার অধিকার (৭৫ শতাংশ) গণতন্ত্রের জন্য তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায