সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


একজন কিশোরীর ডায়েরিতে পাওয়া আদীব হুজুর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফাতিমা যাহরাহ
অালেমা ও লেখিকা

শুরুটা আর অন্য দশজনের কাহিনির মতই সাধারণ। দরসের কিতাবে প্রথম ‘এসো আরবী শিখি’ পড়া। তারপর ঘটনাক্রমে ‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’ হাতে আসা। জানাটা তখন থেকেই শুরু। যদিও তখন লেখকের চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিলো ‘হাফেজ্জী হুজুর’ এর প্রতি।

কত সাধারণভাবে একজন অসাধারণ মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় করিযে দিচ্ছেন! এতোটুকু বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না। সবগুলো দৃশ্য যেনো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

খুব ইচ্ছে হতো তাকে বলি, আচ্ছা! এতো চমৎকার লেখেন কেন ? আমাকে শেখাবেন ? বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চিঠি লিখতাম। জানতাম এই চিঠি কখনোই লেখক পর্যন্ত যাবে না।তারপরও মনের আনন্দে লিখতাম।নিজেই লিখতাম, নিজেই জবাব দিতাম। আব্বু এই কাণ্ড দেখে একদিন বললেন, আচ্ছা, আমি তাকে খুঁজে বের করবো। তুমি তার জন্য সুন্দর করে একটা চিঠি লেখো।

এই ঘটনার কিছুদিন আগে আব্বু আমাকে তিনটা ডায়রি এনে দিয়েছিলেন। প্রথমদিনই একটা ডায়রি আলাদা করে রেখেছিলাম। তাকে উপহার দেয়ার জন্য। সেই ডায়রিটা প্যাকেট করলাম। তারপর একটা চিঠি লিখলাম।যা মনে আসলো তাই লিখলাম। আর দ্বিতীয়বার পড়লাম না। চিন্তাভাবনা করে লিখলে বা লেখার পর চিন্তাভাবনা করে পড়লে সেটা আর দিতে পারতাম না। সবকিছু ঠিক করে রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

ফজরে আব্বু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। সেদিন ছিলো ইংরেজি মাসের ৩০ তারিখ। তার দু'দিন পর রোযা শুরু হবে। পরেরদিন অর্থাৎ শা'বান মাসের ত্রিশ তারিখ সকালে আব্বু জানালেন, তিনি একজনের কাছে খোঁজ পেয়েছেন। এখন রওয়ানা দিবেন।

এগারোটা কি বারোটার দিকে ফোন দিলে বললেন ভুল ঠিকানা দিয়েছিলো। এখন আবার খুঁজছেন। বললাম না পেলে ফিরে আসুন। আল্লাহ যদি ভাগ্যে রাখেন তাহলে একদিন নিশ্চিত তার কাছে যেতে পারবো। আব্বু বললেন, ইনশাআল্লাহ্‌! আর একবার চেষ্টা করে দেখি। দুআ করতে থাকো বেশি বেশি।

বিকালে ফোন এলে আম্মু ধরলো। আব্বু আমাকে চাইলেন। সালাম দিতেই আব্বুর কান্নার আওয়াজ। ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে আব্বু? কিছুক্ষণ চুপ। মনে হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন তিনি। তারপর বললেন, আমি নিজে হাতে তাকে আপনার হাদিয়া দিয়েছি। তিনি খুশী হয়ে গ্রহণ করেছেন। আপনাদের জন্য দুআ করেছেন। হাদিয়াও পাঠিয়েছেন আপনাদের জন্য ...।

ফোনের ওà¦