সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেয়ার বিষয়টি যে ‘আইওয়াশ’ তা এখন স্পষ্ট। কারণ মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি করলেও তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে টালবাহানা করছে।
অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট যে, মিয়ানমার রাখাইনকে মুসলিম-মুক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলিমদের পাশে দাঁড়াবে কে?
প্রশ্নটা এই কারণে যে, জাতিসংঘসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকাকে কেবল বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েই দায়িত্ব সেরেছে। এক্ষেত্রে কিন্তু কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
তাহলে কি তারা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মতো একেবারে শেষ দিকে হস্তক্ষেপ করে ‘নীতি’ রক্ষার ফন্দি করছে বলে ধরে নেওয়া যায় না? অবশ্য সেখানে তারা মুসলমানদের রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপ করেনি, বরং সার্বিয়াকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
আসল কথা হচ্ছে, মুসলমানরা জুলুমের শিকার হলে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলো শুধু মুখে মুখে সহানুভূতি প্রকাশ করে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ উগ্রবাদী বৌদ্ধরা যেভাবে নির্বিচারে খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করেছে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু জীবন নিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।বাংলাদেশ সাধ্যানুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
কারও অজানা নয়-রাখাইন রাজ্যের ‘কাউক গ্রাম’ এক সময় ছিল রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিবাস। যে গ্রামের প্রবেশপথে এখন শোভা পাচ্ছে বৌদ্ধদের পতাকা। সেখানে বসতি গড়ে তুলছে বৌদ্ধ রাখাইনরা।
এসব কীসের আলামত? নিশ্চয়ই রাখাইনকে মুসলিম-মুক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র!
জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ পশ্চিমা দেশ ও মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে ছুটে এসেছেন। তারা মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বলা যায়, এক রকমের চাপে পড়েই মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে লোকদেখানো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি করেছে।
প্রত্যাবাসন চুক্তি à¦