সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


আতাতুর্ক-এরদোগান : ইতিহাসের সমীকরণে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম : ঐতিহ্যবাহী ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর শক্তিশালী দেশ ও জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পশ্চিম সীমান্তে গ্রিস এবং পূর্ব সীমান্তে ইরানকে নিয়ে এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের সঙ্গমস্থলে আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০২ সাল থেকে রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বাধীন ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছে। ১৯২৩ সালে আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানের তত্ত্বাবধানেই দেশটিতে বেশ বড় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর রোববারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার দল আবারো বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন।

১২৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল ঐতিহাসিক ওসমানীয় সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য ৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বেশির ভাগ এলাকা নিয়ে পৃথিবীর বুকে সগৌরবে টিকে ছিল। ইসলামের সব পবিত্র স্থাপনাসহ আধুনিক সৌদি আরবও এই সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। কিন্তু শেষের দিকে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের শৌর্যবীর্য ধীরে ধীরে ক্ষয় পেতে থাকে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানির পক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাজয়বরণ করার পর সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মোস্তফা কামাল আতাতুর্কসহ তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা ১৯২৩ সালে এক ঘোষণার মাধ্যমে তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

এরদোগান ক্ষমতায় আসার পর তুরস্ক আবারো ইরাক ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য, বলকান রাষ্ট্রসমূহ এবং আফ্রিকায় ওসমানীয় যুগের ন্যায় প্রভাব বিস্তারে মনোযোগী হয়। আধুনিক তুরস্কের প্রথম প্রেসিডেন্ট কামাল আতাতুর্ক ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তুরস্ককে রাষ্ট্রীয়ভাবে পশ্চিমা রীতিনীতি ও মূল্যবোধের দিকে চালিত করেন এবং সেকুল্যারিজমকে দেশের অন্যতম মৌলিকভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর কামাল আতাতুর্কের উত্তরসূরি ইসমত ইনোনুর হাত ধরে ১৯৪৬ সালে তুরস্কে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়।

অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক নিরপেক্ষ ছিল। এরপর ১৯৫২ সালে প্রতিবেশী গ্রিসের সাথে তুরস্ক ন্যাটো জোটে যোগ দেয়। দেশকে ধীরে ধীরে ইসলামীকরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তুরস্কের পশ্চিমাঘেষা রীতিনীতি পরিবর্তনের জন্য সমালোচকেরা এরদোগানকে অভিযু