সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


সহস্রাব্দের ঋণ; গ্রন্থ ও গ্রন্থকার প্রসঙ্গে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল হালিম নোমানি আল আযহারি

বিশ্বময় চলছে সভ্যতার সংঘাত। স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন লিখিত ‘দি ক্ল্যাশ অব সেভিলাইজেশন’ থিউরি এই সংঘাতকে নতুন করে উস্কে দিলেও ইসলাম বরাবরই পশ্চিমা সভ্যতার ঘোষিত প্রতিপক্ষ। মুসলিম সভ্যতা তার আক্রমণের শিকার।

কিন্তু সভ্যতার সংঘাতের এ যুগে আক্রমণের ধারা আর আগের মতো থাকেনি। এখন চলছে সভ্যতাকে সভ্যতা দিয়ে পরাজিত করার লড়াই। এতে পশ্চিমা সভ্যতা বজ্রগর্জনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করছে।

তার সৈনিকরা বিশ্বময় সমস্বরে এর প্রতিধ্বনি করছেন। তারা পশ্চিমা সভ্যতাকে যতটা মহান করছেন, ঠিক ততটাই কলঙ্কময় চিত্রায়ন করছেন ইসলামি সভ্যতার।

ইসলামকে এভাবে মার দেয়াটা এতো তীব্র ও ব্যাপক যে, এর ফলে সারা বিশ্বে শিক্ষিত মুসলিমদের প্রধান একটি অংশ নামাজ-রোজার প্রশ্নে মুসলিম হলেও সভ্যতার লড়াইয়ে পাশ্চাত্যের প্রচারণায় বিশ্বাস স্থাপন করেছে।

তারা মনে করে, ধর্ম হিসেবে ইসলাম হয়তো সেরা, কিন্তু সভ্যতা হিসেবে ইসলামি সভ্যতা পশ্চিমা সভ্যতার তুলনায় অপকৃষ্ট।

পশ্চিমা সভ্যতা যেসব উপকরণ নিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে, সেগুলো ইউরোপীয় রেনেসাঁ ও আধুনিক দুনিয়া গড়ার মালসামান। তার দাবি, এইসব ‘সামানা’ মানব সভ্যতাকে অগ্রগতির শেখরে নিয়ে যাচ্ছে আর ‘সামানা’গুলো একান্তই তার।

এগুলো সে অর্জন করেছে আপন সাধনায়। এর অনেকটাই তার পূর্বপুরুষ গ্রিকদের উত্তরাধিকার। মানব জাতির প্রতি এগুলো তার অবদান। বিপরীতে ইসলামি সভ্যতা দুনিয়াকে দিয়েছে বর্বরতা আর অনগ্রসরতা।

সে জানে এই থিউরির প্রচার ও প্রতিষ্ঠার ওপর সভ্যতার লড়াইয়ে বিজয় অনেকটাই নির্ভরশীল । অতএব জয়ের পথে তুমুল গতিতে সে ধাবমান।

‘সহস্রাব্দের ঋণ’ এ বাস্তবতায় একটি বিপরিতমুখি উচ্চারণ। একটি পাল্টা তরঙ্গ। যে-সব ‘সামানা’ নিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে, দুনিয়া শাসনের যুক্তি খাড়া করে এবং ইসলামকে হেয় করে, বইটি বলে, আসুন- সভ্যতার এই সম্পদগুলোর দাগ-খতিয়ান, দলিল, বায়নামা সামনে নিয়ে বসি।

কে এগুলোর শিক্ষাদাতা? কে লালন ও বিকাশদাতা? কোথায় এগুলোর উৎসমূল? এগুলো প্রকৃতই কার দান? মুসলিম-সভ্যতার যে সময়টিকে পশ্চিমারা ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’র অভিধা দেন, বইটি সে সময়ের বিপরীত চিত্র দেখায় এবং পশ্চিমা সূত্র দিয়েই প্রমাণ করে পাশ্চাত্যের প্রচারণার ভ্রা