আশরাফ উদ্দীন খান
আলেম, লেখক ও গবেষক
বাংলাদেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা একটি উল্লেখযোগ্য ধারা। নিজস্ব শিক্ষানীতি, উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে এই শিক্ষা বিরাজমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলে।
১৮৬৬ সালের তৎকালীন পাক-ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবে, শুধুমাত্র ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা গ্রহণ করে এই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম প্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ মাদরাসার গোঁড়া পত্তন হয়।
পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট মানুষের সামনে বহির্গমনের পথ ও কর্ম-কৌশল নির্ধারণ করে থাকে, তাই তদানীন্তন পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে ‘পরাধীন’ মুসলিম উম্মাহ কিভাবে তাদের দ্বীন-ইমান ও দ্বীনী শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে পারেন সেই চিন্তা সামনে রেখেই কওমি মাদরাসার মাধ্যমে একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল।
পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে কর্ম-পদ্ধতি ও কৌশল পরিবর্তন করা জরুরী –এটাও বুদ্ধি ও যুক্তির দাবী।
‘কওমিমাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্ট্যাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ এর মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সাহিত্য- এ দুই বিষয়ে মাস্টার্সের মর্যাদা পাবে।
সন্দেহ নেই যে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে এটি একটি ইতিবাচক সংবাদ, যা দীর্ঘ দিনের ফিকির ও মোজাহাদার মাধ্যমে অর্জিত হল এবং আইনটি বাস্তবায়নে অনুমদিত হল।
যে কোন নতুন পরিস্থিতি, উদ্যোগ, পরিকল্পনা একদিকে যেমন আশা ও সম্ভাবনা দ্বারা ঘিরে থাকে, ঠিক তেমনি তার বিপরীতে তাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনেই দ্বিধা, দুঃশ্চিন্তা ও আতংক বিরাজ করে।
কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির বিষয়ের সরকারের আজকের সিদ্ধান্ত এই প্রবণতার বাইরের কিছু নয়। স্বীকৃতি প্রদানের আগে ও পরে, স্বীকৃতি বিষয়ে যে মনোভাব আমাদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে বিরাজ করে আসছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়-
স্বীকৃতির জন্যে আন্দোলন করা বা স্বীকৃতি গ্রহণ করা একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে কওমি মাদরাসার মূল দর্শন, উদ্দেশ্য ও চেতনা থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
স্বীকৃতি আদায় করা ছাড়া কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।
স্বà§