আবদুল্লাহ তামিম
আওয়ার ইসলাম
অনেক বছর ধরে তালেবান ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনিই হলেন মাওলানা সামিউল হক। যাকে গোটা বিশ্বে ‘ফাদার অব তালেবান’ হিসেবে জানে।
১৯৩৭ সালের দিকে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের তালেবানদের ইতিহাস বলতে গেলে তার কথা অবশ্যই উঠে আসবে। মাওলানা সামিউল হক পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে দারুল উলুম হাক্কানিয়া মাদরাসার পরিচালক ছিলেন।
তাকে তালেবান আন্দোলনের প্রধান নেপথ্য পুরুষ হিসেবেও গণ্য করা হয়। কারণ এ আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের শিক্ষক ছিলেন তিনি।
তার ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ একজন ছিলেন তালেবান নেতা মোল্লা ওমর। পাকিস্তানে তালেবান আন্দোলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সত্ত্বেও তিনি যে মাদরাসা পরিচালনা করতেন সরকার তাতে কো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি কোনো দিন। শুধু তাই নয় এ দারুল উলুম হাক্কানিয়া মাদরাসায় পাকিস্তানের আঞ্চলিক সরকার অর্থও বরাদ্দ করতো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সামিউল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, পাকিস্তান এক গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি নেতাকে হারিয়েছে। এ শূন্যতা পূরণীয় নয়।
মৃত্যুর একদিন আগে মাওলানা সামিউল হক খাইবার পাখতুনখোয়া এর চরসাদ্দা জেলার টঙ্গি অঞ্চলে একটি সম্মেলনে তার শেষ বক্তৃতা করেছিলেন।
সেখানে উপস্থিত তার ছাত্র ও অনুসারিদের তিনি জিহাদের ওপর বায়াত করেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের যুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
৮১ বছরের এ মহান নেতা ও বিশিষ্ট আলেম দারুল উলুম হক্কানিয়ার প্রধান ছিলেন। মাওলানা সামিউল হক পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা ও পাকিস্তান সিনেটের সাবেক সদস্যও ছিলেন।
শেষ বয়সে তার জনপ্রিয়তা আরো বেশি হয়ে ওঠেছিলো। রাজনৈতিক ও মতাদর্শগতভাবে বিভিন্ন ইসলামি কাজে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।
রক্ষণশীল ইসলামিক রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে মতাদর্শের দিক দিয়ে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তিনি একজন শিক্ষক। দারুল উলুম হাক্কানিয়ার প্রিন্সিপাল। বহু ছাত্র তৈরি করে গেছেন তিনি। হাজার হাজার তালিবে ইলম তার মাদরাসা থেকে ইলম অর্জন করেছেন।

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলূম হক্কানিয়া। একে মানুষ ‘জিহাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবেই বেশি চিনে।
মাওলানা সামিউল হক এটি পরিচালনা করতেন। তà