ইশতিয়াক সিদ্দিকী: ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানীদের সরকারিভাবে সংখ্যালগু অমুসলিম ঘোষণা করাসহ তাদের ইজতেমা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
কাদিয়ানীদের তথাকথিত ইজতেমা বন্ধ না হলে পঞ্চগড় অভিমুখে লংমার্চ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) হাটহাজারীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আমিরে হেফাজত। সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি জানানো হয়। এছাড়াও কাদিয়ানিদের বিস্তারিত পরিচয় দলিলসহ পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা আহমদ শফীর দেয়া লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা! নিজেদের শত ব্যস্ততা বিসর্জন দিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দেয়ায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা সমাজের দর্পণ, দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে যে আত্মত্যাগ দিয়ে যাচ্ছেন, তার উত্তম প্রতিদান আল্লাহ তা’আলা দান করুন, এটাই আমাদের কামনা।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! তথাকথিত ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইহুদি-খ্রিস্টানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মুসলমানদের ঈমান হরণের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে দীর্ঘকাল যাবৎ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে; তাই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পরিচিতি, ধর্মীয় মতবাদ, তাদের সম্পর্কে ইসলামী শরীআর দৃষ্টিভঙ্গি ও মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের মাধ্যমে দেশ, জনগণ ও সরকারকে অবহিত করার লক্ষ্যে আপনাদের স্মরণ করেছি ।
প্রিয় উপস্থিতি! মূলত: কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার অন্তর্গত কাদিয়ান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ কারণে তাকে কাদিয়ানী এবং অনুসারীদেরকে কাদিয়ানী সম্প্রদায় বলা হয়। তবে তারা নিজেদের “আহমদিয়া মুসলিম জামা’ত” নামে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং “আহমদী” বলতে ভালোবাসে।
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার কারণসমূহ
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধ হানাফী-শাফেয়ী বা হানাফী-আহলে হাদীস অথবা সুন্নী-বেদআতীদের মতবিরোধের মত নয়, বরং তাদের সাথে মুসলমানদের বিরোধ এমন কিছু মৌলিক আকীদা নিয়ে, যা বিশ্বাস করা-না করার উপর মানুষের ঈমান থাকা-না থাকা