কৌশিক পানাহি: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। এর আগে হামজার হদিস দিতে পারলেই এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের কথা ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৯ বছরের হামজার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। যেখানেই সে এখন থাকুক না কেন, সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে পারবে না। আর বিশ্বের কেউই হামজার কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না এবং হামজাও কারও কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না।
হামজাকে আল-কায়দা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য উত্তরসূরী উল্লেখ করে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হামজা ভবিষ্যতের সন্ত্রাসের মুখ।’
এদিকে, হামজার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে সৌদি আরব। ২০১৮ সালের নভেম্বরে হামজার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব পাশ হয়।
আল কায়দার বর্তমান প্রধান আইমান-আল-জাওয়াহিরি। ২০১৫ সালে অডিও বার্তার মাধ্যমে এই আইমানই প্রথম প্রকাশ্যে আনেন হামজাকে। সূত্রের খবর, ওসামার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বাবার সঙ্গেই থাকত হামজা। তারপর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনার হাতে খতম হয় লাদেন। এরপর থেকেই বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে হামজা। বেশ কয়েকবার আমেরিকাকে ৯/১১-র থেকেও বড় হামলার হুমকি দিয়েছে হামজা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আল কায়দা গোষ্ঠীতেও তরুণ নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর তাই আইমান নিজের সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে হামজাকেই বেছে নিতে চায়।
হামজার আস্তানা সম্পর্কে মাঝে মাঝে সামনে এসেছে নানান তথ্য। কখনও শোনা গেছে, ইরানে নিজের মায়ের সঙ্গে থাকে হামজা। সেখানেই তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কখনও বা হামজার কোনও আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, পাকিস্তান ছেড়ে আফগানিস্থানে ঘাঁটি গেড়েছে হামজা। তার আস্তানার তালিকায় উঠে এসেছে সিরিয়ার নামও।
তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের ব্যান বা নিষিদ্ধকরণ অনুযায়ী যেখানেই হামজা থাকুক না কেন, অন্য দেশে আর যেতে পারবে না। বাজেয়াপ্ত করা হবে হামজার যাবতীয় সম্পত্তি। এ ছাড়া, বিশ্বের কারও সঙ্গেই অস্ত্র কেনাবেচা করতে পারবে না হামজা বিন লাদেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, জঙ্গি হামলা হয় আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। মুহূর্তে ধুলোয় মিশে যায় আকাশছোঁয়া ওই বিল্ডিং। মারা যান অসংখ্য সাধারণ মানুষ। একটি প্লেন হাইজ্যাক করে সেই প্লেন সমেত ওয়ার