বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.।ইতিহাসবিদ, আরবি ভাষা বিজ্ঞানীর পাশপাশি সীরাত গবেষক হিসেবে আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর খ্যাতি উপমহাদেশের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরব, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার শিক্ষিত মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২২ নভেম্বর ৬৫ খৃস্টাব্দে নদওয়াতুল উলামার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাওলানা নদভী রহ. যে নসিহত করেছিলেন সংক্ষেপে তা পেশ করা হচ্ছে।
আমার স্নেহের ছাত্ররা! তােমাদের দেখে আমার আজ বড় আনন্দ হচ্ছে, যেমন খান্দানের ছােট ছােট বাচ্চাদের দেখে খান্দানের বৃদ্ধ মুরুব্বীর আনন্দ হয়। তােমরা খুব মেহনত ও পরিশ্রম করেছ এবং এ প্রতিযােগিতায় নিজেদেরকে পুরস্কারের যােগ্য প্রমাণিত করেছ।
তােমাদের উস্তাদগণ তােমাদেরকে পুরস্কারের যােগ্য মনে করেছেন এ জন্য আমি তােমাদের প্রতি আন্তরিক মােবারকবাদ জানাই।
তােমাদেরকে কিতাবপত্র এবং অন্যান্য যে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে হয়ত বাজারে সেগুলোর অর্থমূল্য তেমন বেশী নয়, কিন্তু এদিক থেকে এগুলাে খুবই মূল্যবান যে, তােমাদের মুরুব্বীগণ এগুলাে তােমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন এবং তোমাদের উস্তাদদের উপস্থিতিতে এই বলে তােমাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে যে, আমাদের বাচ্চারা বিভিন্ন প্রতিযােগিতায় বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে।
আমিও যখন তােমাদের মত ছােট ছিলাম তখন আমাদের মুরুব্বীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছিলাম, কিন্তু শৈশবের উদাসীনতায় সেগুলাে হারিয়ে গেছে। সে জন্য এখন আমার খুব আফসােস হয়। যদি বরকতের জিনিস হিসাবে সেগুলো এখন আমার কাছে থাকতাে তাহলে খুব ভালাে হতাে।
শৈশবের আনন্দের স্মৃতিগুলাে এবং উস্তাদদের দু'আর চিহ্নগুলাে এখন যদি আমার কাছে থাকতাে তাহলে খুব খুশি লাগতাে। কিন্তু শৈশবের অবহেলার কারণে সেগুলাে হারিয়ে গেছে। এখন আমি তােমাদেরকে নসিহত করছি, বরং অছিয়ত করছি যে, তােমরা এই পুরস্কারগুলাে খুব হেফাজত করে রাখবে, যেন ‘হারিয়ে না যায়।
যখন তােমরা আমার মত বুড়ো হবে তখন শৈশবের এই স্মৃতিগুলাে দেখে তােমাদের মনে বড় আনন্দ হবে এবং তােমাদের মনে পড়বে যে, আমাদের উস্তাদগণ আমাদেরকে মুহব্বত করে এই পুরস্কার দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন বিষয়ের উপর আজ আমি তােমাদের বক্তৃতà