মোস্তফা ওয়াদুদ
বিশেষ প্রতিবেদক
কল্লাকাটা বা ছেলেধরা গুজবের ফলে দেশের কয়েকটি স্থানে হাতেনাতে কয়েকজন অপরাধী ধরা পড়ায় এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এই গুজবকে পুঁজি করে কোথাও কোথাও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃখঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আবার এ গুজবের শিকার হয়ে বাড্ডায় প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ তাসলিমা আকতার রেনু। গুজব নামক এ গজব থেকে মুক্তির উপায় কী?
আমরা যদি শুরু থেকে দেখি, প্রথমে পদ্মাসেতু নির্মাণে কল্লা লাগবে এমন একটি সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আইনশৃখঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই সংবাদকে গুজব বলে দাবি করেছেন।
‘পদ্মাসেতু নির্মাণে কল্লা লাগবে’ এর নেপথ্যে কারা বা কী উদ্দেশেই এমন জঘন্য ঘটনা ঘটছে? এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বা অবস্থান কী?
রাজধানীর গুলিস্থান গোলাপশাহ মাজার মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জামীর জানান, “কল্লাকাট কিংবা ছেলেধরা নামে আজকাল চারদিকে আমরা যা শুনছি, এগুলো আসলে কুচক্রিমহলের ষড়যন্ত্র। দেশের শৃঙ্খলাভঙ্গে এরা কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, “ইসলামে মানুষ হত্যা, শিশু হত্যা, নারী হত্যা মহাপাপ। ইসলামে কল্লাকাটা কিংবা ছেলেধরার মতো অপরাধকে কখনোই সমর্থন করে না। গণপিটুনিও ইসলাম সমর্থন করে না। গত পরশুদিন রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা আকতার রেনু নামের মাস্টার্স পাশ শিক্ষিত যে মেয়েটিকে গণপিটুনিতে মারা হলো। ইসলাম কখনোই এসব বৈধ বলে না। সবসময় এসব জঘণ্য কাজকে নাজায়েজ ও হারাম ফতোয়া দিয়ে এসব থেকে বিরত রেখেছে ইসলাম।”
“ ইসলাম বর্বরতা রোধকল্পে আগমন করেছে। এসব নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে নিষেধ করেছে। সন্দেহের বশত কিছু করাকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। অতএব এসব থেকে বেঁচে থাকাই হলো ইসলামের শিক্ষা।” যোগ করেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম।
ঢাকার মিরপুর-১ নাম্বার টোলারবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি ফয়সাল আহমদ যাকারিয়াও একই মতামত জানালেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির লোক 'পদ্মাসেতুতে মানুষের মাথা লাগবে' মর্মে গুজব রটাচ্ছে। যদিও এর সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র কোনো সমর্থন নেই।”
ফয়সাল আহমদ যাকারিয়া বলেন, চারদিকে কল্লাকাটা লোকদের খবর প্রচারিত হতে থাকলে পদ্মাসেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান 'এর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই মর্মে' বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর পরও সেতু নির্মাণে মাথা না লাগার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। এ সত্বেও à¦