সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


সরকারী সার্টিফিকেটের জন্য আবারও তাকমিল পরীক্ষা : মিশ্রপ্রতিক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মদ
যুগ্ম বার্তা সম্পাদক

ফারেগীন শিক্ষার্থীরাও নতুনভাবে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা দিয়ে সরকারি সনদ নিতে পারবে বলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। নতুন এ নিয়মে ২০১৭ সালের পূর্বে দাওরায়ে হাদীস ফারেগ যে কেউ আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত সুযোগটি গ্রহণ করতে পারবে।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে নবীন-প্রবীনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অফলাইন-অনলাইনে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে মৃদু বিতর্ক, থেমে নেই সমালোচনাও। এর মাধ্যমে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র সনদ বা সার্টিফিকেট নির্ভর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সমালোচকদের। আবার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

নতুনভাবে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন চট্টগ্রামের ওসমান গনি এমইএস কলেজের সাবেক অধ্যাপক দেশের খ্যাতিমান ইসলামিক স্কলার ও লেখক ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার দাওরায়ে হাদীসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদান করেছে কিন্তু আজ অবধি সিলেবাসের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। তাহলে আগে যারা পাশ করেছে তাদের নতুনভাবে পরীক্ষা দেওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? কারণ, সিলেবাস, পরীক্ষা এবং প্রশ্ন পদ্ধতি তো একই রয়েছে।”

মাওলানা খালিদের যুক্তি হলো- এখনো পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেফাক বা অন্যান্য বোর্ডের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে, আগেও তাই করতে হয়েছে, এমন নয় যে এখন সরকারিভাবে ভিন্ন পদ্ধতি ও ভিন্ন সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সুতরাং পরীক্ষা দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই বলে অভিমত দেন তিনি।

তবে সরকারি স্বীকৃতির সুযোগ গ্রহণে ইচ্ছুক সকলকে নতুনভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আলেম সাংবাদিক ও শিক্ষক মাদরাসায়ে দারুর রাশাদের শিক্ষা সচিব মাওলানা লিয়াকাত আলী ।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের পূর্বে যে সকল শিক্ষার্থীরা কওমি মাদরাসা থেকে ফারেগ হয়েছেন তাদের নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে হাইয়াতুল উলইয়া। আমার ধারণা, অনেক ফারেগীন এই সুযোগটা চেয়েছেন, এ কারণেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে।

পরীক্ষা না দিয়ে বিকল্প কোন পদ্ধতিত