আওয়ার ইসলাম: বিখ্যাত পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবী নুহ হামিম কিলার ১৯৫৪ সালে আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাদেশিক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। রোমান ক্যাথলিক হিসেবে এক রক্ষণশীল ধর্মীয় পরিবারে তিনি বেড়ে ওঠেন।
এরপর ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের আকিদা ও বিশ্বাস সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন তার মনে দোলা দিতে থাকে। অবশেষে ১৯৭৭ সালে মিসরের কায়রোতে গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন ড. ইকবাল কবীর মোহন।
নুহ হামিম কিলার খ্রিস্ট ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ১৯৬৩ সালের দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিল অনুযায়ী চার্চের নির্ধারিত কোনো মাপকাঠি ছিল না। এ কারণেই ক্যাথলিক চার্চীয় উপাসনা ও প্রথাগুলো বরাবর পরিবর্তন চলে আসছিল।
গির্জার পাদ্রিরা চার্চের নিয়ম-কানুনে নমনীয়তার পক্ষপাতী ছিল। তা সত্ত্বেও তারা সাধারণ ক্যাথলিক সমাজকে অন্ধকারে হাবুডুবু খাওয়াচ্ছিল। আল্লাহ প্রেরিত পবিত্র গ্রন্থ ইনজিল ইবরানি থেকে লাতিন, লাতিন থেকে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে তার অনেক কিছু আজ পরিবর্তন হয়ে গেছে।
এই পরিবর্তনের আরো একটি কারণ ছিল তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের জটিলতা। যেমন ‘ত্রিত্ববাদের বিশ্বাস’। কোনো সাধারণ খ্রিস্টান তো নয়ই, বরং কোনো পাদ্রিও যুক্তিগ্রাহ্যভাবে এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ত্রিত্ববাদের বিশ্বাস মতে, ‘আল্লাহ জান্নাতে অবস্থান করে জগতের রাজত্ব পরিচালনা করছেন।
পৃথিবীতে আছেন আল্লাহর পুত্র ঈসা মসিহ, যিনি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মানবতাকে রক্ষা করেছেন। আর ফেরেশতা হজরত জিবরাইল আ., যিনি একটি শুভ্র পাখিরূপে বিচরণ করছেন।
তিনি আরো বলেন, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে আমি যখন খ্রিস্টবাদ নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা শুরু করি তখন আমার বুঝে এলো যে নিউ টেস্টামেন্ট ও ওল্ড টেস্টামেন্ট মূল গ্রন্থের সত্যাসত্যকেই সন্দেহের মাঝে ফেলে দিয়েছে। আমি জ্যাকসজারমিয়াসের লেখা ‘দ্য প্রবলেম অব হিস্টরিক্যাল জিসাস’ পড়েছি। জারমিয়াস এ শতাব্দীতে নিউ টেস্টামেন্টের একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী।
তিনি পবিত্র ইনজিলের মূল ভাষায় বিশিষ্ট পণ্ডিত রুডলিফ রোলেটরের এ মতবাদের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন যে নিউ টেস্টামেন্টের ওপর ভিত্তি করে হজ