আতিকুর রহমান নগরী
অতিথি লেখক
নবুওয়াতের একাদশ বছর ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। যে বছর হযরত মুহাম্মদ সা. কে এক সম্মানজনক রাত উপহার দেয়া হয়। যা নবীদের মধ্যে শুধুমাত্র মহানবী সা.’র বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
একরাতে মহানবী সা. হাতিমে কাবায় শুয়েছিলেন। বুখারী শরীফের এক বর্ণনানুযায়ী তিনি নিজ ঘরে শুয়েছিলেন। হযরত জিবরাঈল ও মিকাঈল আ. এসে বললেন- আমাদের সাথে চলুন। বুরাক নামীয় স্পেশাল সওয়ারীর উপর আরোহণের মাধ্যমে পবিত্র এ শোভাযাত্রার সূচনা হয়।
এই বুরাকের দ্রুতগামীতার অবস্থা এই ছিল যে, যেখানে তার দৃষ্টিশক্তি পড়ছিল, সেখানেই সে পা ফেলছিল। এভাবে বিরতিহীন যাত্রার পর প্রথমে তাকে মসজিদে আক্বসা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে আল্লাহ তালা আগে থেকেই পূর্বেকার সকল আম্বিয়ায়ে কেরামকে সমবেত করে রাখেন তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার জন্য। এটা শুধুমাত্র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা.’র একক বৈশিষ্ট্য।
মসজিদে আক্বসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি এভাবে সাজানো ছিল। প্রথমে হযরত জিবরাঈল আ. আযান দিলেন এবং নামায আদায়ের জন্য সকল নবী-রাসূল কাতারবন্ধী হয়ে অপেক্ষমাণ ছিলেন যে কে নামাযের ইমামতি করবেন। হযরত জিবরাঈল আ. বিশ্বনবীর হাত ধরে ইমামতির জন্য এগিয়ে দিলেন। তিনি ইমাম হয়ে সকল নবী-রাসূল ও ফেরেস্তাদের নামায পড়ালেন। তিনি হলেন ইমামুল মুরসালিন। এ ছিল পৃথিবী জগতের ভ্রমণ যা রফরফ বুরাকের দ্বারা সম্পন্ন হয়। অতঃপর তাকে আল্লাহর নির্দেশে পর্যায়ক্রমে আসমানসমূহে ভ্রমণ করানো হয়।
প্রথম আসমানে: হযরত আদম আ.’র সাথে, দ্বিতীয় আসমানে: হযরত ঈসা আ.’র সাথে, তৃতীয় আসমানে: হযরত ইউসুফ আ.’র সাথে, চতুর্থ আসমানে: হযরত ইদ্রিস আ.’র সাথে, পঞ্চম আসমানে: হযরত হারুন আ.’র সাথে, ষষ্ঠ আসমানে: হযরত মুসা আ.’র সাথে, সপ্তম আসমানে: হযরত ইব্রাহিম আ.’র সাথে সাক্ষাত হয়। (বুখারী শরীফ, ফাতহুল বারী: পারা ১৫/পৃ.৪৮৫)
অতঃপর তিনি ‘‘সিদরাতুল মুনতাহার’’ দিকে সফর শুরু করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। পরে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি খোদায়ি সব নিয়ামতের দর্শন লাভে সক্ষম হন। জান্নাতে থাকা স্পেশাল সব নেয়ামত দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন। যা à¦
