মুসা আল হাফিজ।।
মহামারি আর দুর্ভিক্ষ। একটি আরেকটির হাত ধরে চলে। উভয়ের সম্পর্ক অনেক পুরনো। এই যে কোভিড ১৯ এর হানা, সে সাথে করে নিয়ে এসেছে মন্দা। দুনিয়াজোড়া মন্দা বলতে গেলে শুরু হয়ে গেছে। এ মন্দা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভয়ানক হবার আশঙ্কা অকারণ নয়।
আধুনিক দুনিয়ায় ভয়াবহ যে মন্দা ' গ্রেট ডিপ্রেশন ' নামে বিখ্যাত, তার শুরুটা হয়েছিলো ১৯২৯ সালে, সমাপ্তি আসে ১৯৩৯ সালে। কেউ কেউ অবশ্য এর সমাপ্তি টেনেছেন ১৯৩৩ সালের মার্চ মাসে। তাহলে কম হলেও এই মন্দার স্থায়িত্ব ছিলো ৩৩ মাস। এই ৩৩ মাসে ইউরোপ-আমেরিকা চরম বিপর্যয়ে কাতরাতে থাকে। চারভাগের এক ভাগ মানুষ হয়ে যান বেকার। বৈশ্বিক জিডিপি কমে যায় শতকরা ২৭ ভাগ। উৎপাদনে নেমে আসে স্থবিরতা। কলকারখানা হয়ে যায় বন্ধ। আয়ের পথ হয়ে যায় রুদ্ধ। অনাহার যায় বেড়ে। ক্ষুধা ও অভাবে মারা যেতে থাকে লোকেরা। শুধু আলু খেয়ে জীবন কাটাতে থাকে অধিকাংশ মানুষ।
আমেরিকা সেই মন্দা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলো প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বে। নিউ ডিল কর্মসূচীর মাধ্যমে আমেরিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো। সঙ্কট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো ইউরোপ।
এই যে মহামন্দা, সেটা কিন্তু এতো ব্যাপক ছিলো না। তার চরিত্র ছিলো না সর্বগ্রাসী। এখন যে মন্দার পদধ্বনি শুনা যাচ্ছে, সে হবে স্বভাবতই আরো ভয়াবহ।
মন্দাটা আসছে বা আসবে, ব্যাপারটা এমন নয়; মন্দা এসে গেছে। আমরা করোনার হুমকিতে আছি, এটা যতোটা সত্য, দুনিয়া এখন মন্দায় আছে, এটাও সমান সত্য। যদি বিশ্বাস করতে না চান, জেনে নিন মন্দা কী?
- মন্দা হলো অর্থনৈতিক কাজকর্ম অনেক বেশি পরিমাণে কমে যাওয়া এবং সেটা কয়েকমাস ধরে স্থায়ী হওয়া!
তার মানে মন্দা ও দুর্ভিক্ষ নিছক কোনো আশঙ্কা নয়, বাস্তব ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এটা মাথার উপর তখনই হাজির হয়েছে, যখন করোনা মহামারি হাজির হয়েছিলো।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, মহামারির পীঠে ছোট-বড় মন্দা-দুর্ভিক্ষ সওয়ার হয়ে থাকেই। ইউরোপের ইতিহাস এর জ্বলন্ত দলীল। কারণ মহামারির অভিজ্ঞতা সবচে' বেশি সঞ্চিত আছে এ মহাদেশের অতীতে। সেই ৪৩০ খ্রিষ্টপূর্বে আমরা দেখি, গ্রিসে দ্য প্লেগ অব এথেন্স। যাকে বলা হয় প্লেগের পয়লা মহামারি। এ মহামারি হাজার হাজার গ্রিক সৈন্যের মরণ এনেছিলো! শুধু তাই নয়, এনেছিলো গণমৃত্যু। গণঅভাব, অনাহারও।
ঐতিহাসিক থুসিডাইডসের রচনাংশ ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়্যার’ এ মিলে সেই মহামারির ইতিবৃত্ত। এটি নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও থুসিডাইডসের তথ্য নিয়ে তেমন সন্দেহ প্রকাশ করেননি ইতিহাসকারগণ। কারণ থুà