মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ।।
তিনি চলে গেছেন আজ ১৫ বছর হয়েছে। সিলেট-বালাগঞ্জের এক ছায়াশীতল জনপদ গহরপুরের ছায়ায় তিনি শুয়ে আছেন। বাংলাদেশের আলেম সমাজের অন্যতম এক রাহবার। জীবনের শেষভাগে প্রায় দশ বছর ছিলেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সভাপতি। তিনি আল্লামা হাফেজ নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.) দেশজুড়ে বিস্তৃত ছোট-বড় প্রায় দশ হাজার কওমি মাদ্রাসার অভিভাবকত্ব ছিল তার কাঁধে। রাহনুমা ছিলেন লাখ লাখ আলেমের। দেশের জনপদে আম মানুষের প্রত্যক্ষ আস্থা ও আশ্রয়ও ছিলেন।
দিনের বেলায় চলত তার হাদিস-ফিকহের দরস। আর রাতের গহীনে ছুটতেন মাহফিল থেকে মাহফিলে। এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। শহর থেকে অজপাড়াগাঁয়। তার হাতে কেচ্ছার ঝুলি ছিল না, গলায় সুরের ঝঙ্কার ছিল না। তবুও গায়েবি অশ্বারোহীর মতো তিনি ছুটে চলতেন। হৃদয়ে উম্মাহর দরদ আর চোখে বুক ভেজানো পানি নিয়ে। তার কণ্ঠে উচ্চারিত আল্লাহর কালাম আর হাদিসে নববির ধ্বনিতে ‘মালামাল’ হয়ে যেত মানুষের হৃদয়ের দহলিজ।
১৯২৪ সালের ২৪ জুলাই তার জন্ম। বালাগঞ্জের গহরপুর গ্রামের মোল্লাপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত দীনদার পরিবারে। অল্প বয়সে তিনি এতিম হয়ে যান। মমতাময়ী মায়ের আঁচল ধরে কৈশোরে চলে যান গোলাপগঞ্জের বাঘায়। এরপর দারুল উলুম দেওবন্দ। সেখানে ১৯৫০ সালে দাওরায়ে হাদিসের শেষ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। ’৫২ সালে তার কর্মজীবনের শুরুই হয় শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।
সোনালি যৌবন থেকেই জীবনে জমতে থাকে পুণ্যের প্রাচুর্য। বয়স যখন তার সত্তর পার হয় হয়, তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশের আলেমদের আস্থাভাজন রাহনুমায় পরিণত হন। ১৯৯৬ সালে তার কাঁধে তুলে দেয়া হয় দেশের কওমি মাদ্রাসা ও কওমি আলেম সমাজের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব। ২০০৫ সালের ২৬ এপ্রিল ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত এ গুরুদায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল।
অনুচ্চ গঠন, বিশেষত্বহীন দেহাবয়ব ও সাদামাটা পোশাক-আশাক। মাথায় সাদা পাগড়ি, গায়ে ছোট্ট আচকান আর হাতে একটি লাঠি। এই ছিল তার চমক-গমকহীন বাহ্য রূপ। এর মধ্যে দুটি ব্যাপার ছিল লক্ষণীয়। শ্যামল মুখাবয়বে প্রশান্ত গভীর দুটি চোখ। নিঃসীম গভীরতায় ডুবে থাকা সে দুটি চোখের উজ্জ্বলতা ও প্রখরতা ছিল বর্ণনাতীত। আর তার গলার স্বরে থাকত প্রত্যয় ও দৃপ্তির আভাস। শঙ্কাহীন, দ্বিধাহীন স্বরে গন্তব্য নির্দেশ করতেন। দ্বিধা-জড়তা কিংবা আড়ষ্টতা নিয়ে তাকে কথা বলতে শোনেননি কেউ, অনুকূল মুহূর্তেও নয়, প্রতিকূল সময়েও নয়।
কিছুটা অন্তর্মুখী ছিলেন। তার স্বভাবে মজযুব আল্লাহর অলিদের বৈশিষ্ট্য ছিল। মিডিয়া তাকে সেভাবে জানত না। তাকে জানতেন সারা দেশের আà¦