সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


কুরআনের এক মহান খাদেম মাওলানা কারী বেলায়েত হুসাইন রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জহির উদ্দিন বাবর।।

মহাগ্রন্থ আল কুরআনের খেদমতে বিশেষ অবদান রেখে যারা ‘স্বর্ণমানব’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন তাদেরই একজন হজরত মাওলানা কারী বেলায়েত হুসাইন রহ.। পবিত্র কুরআনের খেদমতকে তিনি জীবনের মহান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত ও এর চর্চা জারি করার পেছনে বিশাল ভূমিকা তাঁর। সর্বমহলে স্বীকৃত নূরানী পদ্ধতির আবিষ্কারক তিনি। নিজ হাতে গড়েছেন কুরআনের অগণিত শিক্ষক। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাঁর লাখো ছাত্র।

একজীবনে তিনি কুরআনের যে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তাকে ‘নীরব বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। দ্বিতীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে কুরআনের মহান খেদমতের জন্য তাঁর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার কথা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। তবে দীনের মুখলেস এই খাদেম পার্থিব কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য এই খেদমত আঞ্জাম দেননি, মাওলা পাকের দরবারে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর জীবনের পবিত্র মিশন। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁকে উত্তম বদলা দেবেন।

জন্ম ও প্রাথমিক পড়াশোনা

মাওলানা কারী বেলায়েত হুসাইন রহ.-এর জন্ম ১৯১০ সালে চাঁদপুরের শাহরস্তিতে। তাঁর বাবার নাম মুন্সি আবদুল জলীল, মায়ের নাম সাইয়েদা খাতুন। তাঁর বয়স যখন তিন বছর তখন বাবা ইন্তেকাল করেন। আর মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি হারান মাকে।

তাঁর কোনো ভাই ছিলেন না। বড় দুই বোন ছিলেন। ছোট বোন তাঁর থেকে ১৮ বছরের বড় ছিলেন। বোনদের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। শিশুকালে বাবা-মাকে হারিয়ে তিনি অভিভাবকশূন্যতায় ভুগেন। কারী বেলায়েত রহ.-এর বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বড় আলেম বানানো। কিন্তু সে স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পারেননি। কারী সাহেবের চাচা ঢাকার চকবাজারের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। মা-বাবার ইন্তেকালের পর এই শিশুকে তিনি নিয়ে আসেন। কারী সাহেব চাচার দোকানে চাকরি শুরু করেন। এখানে দুই বছর চাকরি করেন।

তাঁর বয়স তখন সাত বছর। একবার তিনি বাড়ি গেলে বড় বোন তাকে বললেন, আব্বা তোমাকে আলেম বানানোর নিয়ত করেছিলেন, কিন্তু চাচার কাছে থাকলে তো তুমি আলেম হতে পারবে না। তখন কারী বেলায়েত রহ. বলেন, আমিও তো পড়তে চাই। কিন্তু চাচার এখানে থেকে তা সম্ভব হবে না। তাই তিনি এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলেন চাচার দোকান থেকে চলে যাবেন।

এবার উঠলেন এক খালার বাড়িতে। তাঁর খালু ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্à