বেলায়েত হুসাইন ।।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। কবে নাগাদ এই মহামারি থেকে পরিত্রাণ মিলবে তার সঠিক কোন সমাধান কেউ দিতে পারছেনা। এরই মধ্যে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা সমূহের নতুন আরেকটি শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় কঠিন বিপাকে পড়েছেন কওমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরকারী নিয়ম মেনে বেশিরভাগ মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লাস আরম্ভ হবে কবে- এর কোন নিশ্চয়তা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত অবসর আরও প্রলম্বিত হচ্ছে। তবে তারা যেন করোনার এই স্থবির পরিস্থিতিতে অলসতা না করে সময়কে কাজে লাগায়- এজন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন রাজধানীর চৌধুরীপাড়ার শেখ জনুরুদ্দীন রহ. দারুল কোরআন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবূ মূসা। "الوقت أثمن من الذهب"
সময়ের দাম স্বর্ণের চেয়ে বেশি, তাই কোনভাবেই সময় অপচয় না করে এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেক তালিবুল ইলমের একান্ত প্রয়োজন। এজন্য নিম্নোক্ত কাজগুলোর প্রতি আমাদের সবার লক্ষ্য রাখা দরকার-
এক, মাদরাসার নেযামুল আওকাতের মতো বাসা-বাড়িতেও নেযামুল আওকাত বানানো অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সুন্নাতসহ জামাতে আদায় করা, বেশি বেশি কুরআনে কারিমের তিলাওয়াত করা (হাফেজের জন্য দৈনিক অন্তত তিন পারা ও গাইরে হাফেজের জন্য এক পারা), বাদ ফজর সূরা ইয়াসিন, বাদ মাগরিব সূরা ওয়াকিয়া ও বাদ ইশা সূরা মুলক নিয়মিত তিলাওয়াত করা, বিশেষ ফজিলতপূর্ণ সূরাগুলো তিলাওয়াতে ইহতিমাম করা এবং বাদ আসর দোয়া জিকর ও তাসবিহর মধ্যে সময় অতিবাহিত করা
দুই, অন্যান্য ফারেগ সময়ে আমাদের আকাবির ও আসলাফদের মাখতুবাত ও মালফুজাত মুতালায়া করা।
তিন, তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য নফলের প্রতি যত্নবান হওয়া।
চার, যেসকল ছাত্র যে জামাতে ভর্তি হয়েছে বা হবে সেই জামাতের মৌলিক কিতাবগুলোর মুকাদ্দিমাত ও মাবাদিয়াতকে হল করার চেষ্টা করা।
পাঁচ, সম্ভব হলে প্রত্যেক ফন বা বিষয়ের একাধিক কিতাব মুতালায়া করা। যেমন: ইলমে নাহু, ইলমুছ ছরফ, ইলমুল ফিকহ, ইলমে তাফসির, ইলমে হাদিসের একাধিক কিতাব মুতালায়া করা।
ছয়, মাদরাসার মতো বাসা-বাড়িতে দীনি পরিবেশ কায়েমের চেষ্টা করা। সম্à¦