সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


কুরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামের নিদর্শন। এই ইবাদতটি শুধুমাত্র এই উম্মতের মধ্যে নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যেও ছিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির একটি পদ্ধতির প্রচলন করেছি, যে জানোয়ার আল্লাহ তাদের দান করেছেন, তার ওপর যেন তারা তাঁর নাম উচ্চারণ করে।’ (সূরা হজ, আয়াত : ৩৪)
মানবসৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে কোরবানি চলে এসেছে। সূরা মায়েদা ২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা আমাদের আদিপিতা আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের কোরবানির পেশের কথা বলেছেন। হাবিল ও কাবিল দুই ভাই কোরবানি করেছিল। হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল আর কাবিলেরটা হয়নি। সূরা কাউসারেও আল্লাহতায়ালা কোরবানি আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার রবের জন্য নমাজ পড়ো ও কোরবানি করো।’ (সূরা কাউছার, আয়াত : ২)

কোরবানির পশু উট, গরু ভেড়াকে আল্লাহ দ্বীনের নিদর্শন বানিয়েছেন। সেগুলো কোরবানী করার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের শান শওকত প্রকাশ পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং উটকে আমি করেছি আমার নিদর্শগুলির অন্যতম; তোমাদের জন্য তাতে কল্যাণ রয়েছে।’ (সূরা হজ, আয়াত : ৩৬)

রাসূল (সা.) মদিনার দশ বছরের জিন্দেগিতে প্রত্যেক বছর কোরবানি করেছেন। কখনো কোরবানি পরিত্যাগ করেননি, বরং কোরবানি পরিত্যাগকারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্তে¡ও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩)

এই কোরবানির পেছনে আমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর চরম আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নিজের জীবন, পরিবার ও বৃদ্ধ বয়সে পাওয়া প্রাণাধিক পুত্রকে জবাই করার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কোরআনের ভাষায়- (ইবরাহিম বলল) হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একজন সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করো। অতঃপর আমি তাকে এক স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। তারপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলো, তখন ইবরাহিম বলল, পুত্র আমার! আমি স্বপ্নে দেখি, তোমাকে আমি জবাই করছি।

এখন তোমার অভিমত কী বলো। পুত্র বলল, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন, তা সম্পাদন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়ে (আল্লাহর নিদের্শের সামনে) আত্মসমর্পন করল, আর ইবরাহিম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করে। তখন আমি তাকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন কà¦