রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩০০ জামিন নামঞ্জুর, আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালতের ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলেই চালু হবে মোগলহাট স্থলবন্দর’ দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষা শুরু ২১ জানুয়ারি, ফি জমার শেষ সময় ১ নভেম্বর এআই তৈরি ছবি চেনার ৫ উপায় ‘ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি হোয়াইট হাউস থেকেই দেওয়া হয়েছে’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে রাখার আবেদন যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে আলেমদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে’

৫৭৩৩ কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস মেলেনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ঈদের ছুটির দিনও দেশের সব কারখানার শ্রমিক বেতন-বোনাস হাতে পাননি। অনেক কারখানা কেবল বোনাস দিয়েছে বেতন দেয়নি।

বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৭০৬টি কারখানার শ্রমিক বেতন-বোনাস কিছুই পাননি। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও ছুটির আগে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জুলাইয়ের অর্ধেক আগাম বেতন পরিশোধ করার কথা ছিল। গত ২০ জুলাই শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন।

কারখানাগুলোর বড় একটি অংশ নির্ধারিত ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে বোনাস পরিশোধে ব্যর্থ হয়। তখন মালিকদের সংগঠনগুলো ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই বেতন ও বোনাস প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো জুলাইয়ের আগাম বেতন সরকারের বিশেষ ঋণ সহায়তা প্রকল্প থেকে দিচ্ছে।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগাম বেতন দিয়েছে। অনেকে আবার বোনাসের কিছু টাকা বকেয়া রেখেছে। অনেকে আবার দুএকদিন সময় নিয়েছে। তবে সবকিছু আলোচনার ভিত্তিতে হয়েছে বলে এবার শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি।

আশুলিয়ার পোশাক কারখানা শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন বলে আসছিল ৩০ জুলাই বেতন-বোনাস দেবে। আজ (৩০ জুলাই) বলছে ব্যাংকের সমস্যার কারণে দিতে দেরি হচ্ছে। কাল সকালের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকে টাকা পৌঁছে যাবে। আদৌ টাকা পাব কি না বুঝতে পারছি না।’

শিল্প পুলিশের গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে দেশের ৬টি শিল্প জোনের ৭ হাজার ৬০২টি শিল্পকারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ৫ হাজার ৬৯৬টি। বকেয়া আছে ১ হাজার ৭০৬টি কারখানার। বকেয়া থাকা কারখানার মধ্যে বিজিএমইএর ৪৭৬টি, বিকেএমইএর ১২২টি, বিটিএমএর ৯৪টি, বেপজার ৫৮টি ও অন্যান্য কারখানার ৯৫৬টির।

শিল্প পুলিশ বলছে, জুলাইয়ের আগাম বেতন পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ৫৭৫টি কারখানা। বকেয়া আছে ৪ হাজার ২৭টি কারখানার বেতন। বকেয়া থাকা কারখানাগুলো হলোÑ বিজিএমইএর ১ হাজার ১২৬টি, বিকেএমইএর ২৫৩টি, বিটিএমএর ১৭০টি, বেপজার ২৭৫টি ও অন্যান্য কারখানার ২ হাজার ২০৩টি।

অন্যদিকে বিজিএমইএ দাবি করেছে গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৮৯৮টি চালু কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৮২১টি ও জুলাইয়ের আগাম বেতন পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৭৮৮টি। বাকি কারখানাগুলোর বেতন-বোনাস বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রদানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বিজিএমইএর মুখপাত্র খান মানিরুল আলম শুভ বলেন, ‘দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমাদের ৯৬ শতাংশ কারখানার বোনাস ও ৯৪ শতাংশ কারখানার জুলাইয়ের আগাম বেতন দেওয়া হয়েছে। কোনো কারখানার কোনো সমস্যা নেই। সব কারখানাই আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বেতন-বোনাস দিতে পারবে বলে আশা করছি।’

অন্যদিকে বিকেএমইএ দাবি করেছে, কতগুলো কারখানা এখন পর্যন্ত বেতন দিয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য সংগঠনটির কাছে নেই। তবে এখন পর্যন্ত বেতনের কারণে কোনো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। তাই ধরে নেওয়া হয়েছে সবার বেতন হয়েছে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ