আব্দুল্লাহ নোমান।।
পর্দা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান।কারণ আল্লাহ তায়ালা মুমিন নারী পুরুষের জন্য পর্দাকে ফরজ করেছেন।কোরআনের কয়েকটি সুরায় মহান আল্লাহ তায়ালা পর্দার বিধান সংক্রান্ত আয়াত নাজিল করার মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়কে পর্দার আদেশ দিয়েছেন।তাই পর্দার বিধান মানা ইমানের দাবি।
আমাদের সমাজে নারীর পর্দার ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।অথচ আল্লাহ তায়ালা নারীর পাশাপাশি পুরুষকেও পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন।তবে নারীপুরুষের পর্দার বিধানের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে।পর্দার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের জন্য আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা সুরা নুরে মুমিন পুরুষদেরকে দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে পরনারীর দিকে দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন,
‘(হে নবি!) মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং পবিত্রতা রক্ষা করে চলে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। নিশ্চয়ই তারা যাহা কিছুই করে, আল্লাহ তৎ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।’ (সুরা নুর: ৩০)।
এরপর আল্লাহ তায়ালা পর্দার সুফল ঘোষণা করে বলেন, এই বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)।
এছাড়াও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে পুরুষদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন।মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে, ‘কোনও পুরুষ কোনও পুরুষকে এবং কোনও নারী কোনও নারীকে যেন বিবস্ত্র অবস্থায় না দেখে।’আলোচ্য হাদিসে একজন পুরুষকে অপর পুরুষ থেকে পর্দার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও রাসুল সা একাধিক হাদিসে একজন পরপুরুষ এবং পরনারীর দেখাসাক্ষাৎ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
রাসূল (সা.) বলেন, সাবধান! কোনো পরপুরুষ যেন কোনো পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে (বুখারী ৩০০৬)।অতঃপর এর কুফল বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,কেননা যখনই তারা (নিরিবিলিতে) মিলিত হয়, শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয় এবং (উভয়কে) কুকর্মে লিপ্ত করানোর প্রচেষ্টায় সে তাদের পিছু লেগে যায় ( তিরমিজি শরিফ)।
এমনিভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মাহ্রামের অনুপস্থিতিতে কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না। (বুখারী ১৮৬২)। অন্য একটি হাদিসে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত থাকার জন্য পুরুষদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনও নারীর নিকটে যেও না। কারণ শয়তান তোমাদের যে কোনও একজনের মধ্যে রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হবà§