শাহাদত হুসাইন।।
মাওলানা আবুল কালাম হুসাইনি মুহাম্মাদ আশেক এলাহি।সদরে মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, জামিয়া ইউনুসিয়া বিবাড়িয়া।
আবুল কালাম হুসাইনি মুহাম্মদ আশেকে ইলাহি। টুমচরে আমার এ নাম দিয়েছিলো। জন্মের পর রাখা হয় আশেকে এলাহী। আদর করে এ নাম রেখেছে। সূফি সদরুদ্দিন সাব ছিলেন। যশোরের। ইন্ডিয়াতে পড়েছে জায়গাটা এখন। তিনি আমাদের মামার বাড়িতে আসতেন। তার ভাগিনার নাম ছিলো আশেকে এলাহি। এ জন্য আমার নামও রাখে আশেকে এলাহি।
মা-বাবা এবং শৈশব, কৈশোর।
আমার বাবা ছিলেন আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ: এর শাগরেদ। দেওবন্দে যখন বিপ্লব হলো তখন তিনি দেওবন্দ থেকে চলে গেলেন। হযরত শাব্বির আহমদ উসমানি রহ: তার সাথি ছিলেন। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আব্বা তাফসির করতেন। সাথে যেতাম আমি। সখ করে সাথে যেতাম। বসে থাকতাম। আর তাফসির শুনতাম। আমার মা ছিলেন খুব অমায়িক। ভালো। সাবার সাথে মিলেমিশে চলতেন।
আমি থাকতাম আমার মামার বাড়ি। পড়া লেখা করেছি সেখানে। পড়ার জন্য মামারা তদারকি করতো। ক্লাস ফোর পর্যন্ত মামার বাড়ি ছিলাম। প্রাথমিক পড়া লেখা মামার বাড়িতেই হয়েছে। তখন কিছু হলে শাসন করতো মামারাই।
বাবা স্নেহ করতেন। কোনো আবদার করলে খুব সহজে পূরণ করতেন। কোনো বাহানা করলে পূর্ণ করতেন। আমি হলাম শান্ত স্বভাবের। স্বভাবের মধ্যে কোনো চঞ্চলতা ছিল না। বাবা যা বলতেন শুনতাম। মানতাম। বাবার বিপরীতে যাইনি। পড়তে বলেছে পড়েছি। মনোযোগ দিয়ে। নিজ থেকে। আগ্রহ নিয়ে। পড়ালেখার জন্য কখনো মারতে হয়নি। পড়া লেখা থেকে কখনো আমার মন ছুটেওনি। নিজ আগ্রহেই পড়ালেখা করেছি। ক্লাস ওয়ান, টু, থ্রী পড়েছি দেশ ভাগের আগে। ক্লাস ফোর দিয়েছি ১৯৪৮ সালে। আমার বাবা দারুল উলূম দেওবন্দের ফাযেল। চাচারা দারুল উলূম দেওবন্দের ফাযেল। বংশের মধ্যে দ্বীনের একটা আবহ ছিল। সবাই মাদরাসা, মাসজিদ মুখি। মাদরাসার প্রতি ভিন্ন অনুরাগ, ভালোবাসা এবং প্রীতি ছিল। সবাই ধার্মিক। সবাই নামাজ পড়ে। মাথায় টুপি। গায়ে পাঞ্জাবি। চলনে, বলনে সুন্নাতের ছাপ। আর সবার মতো
আমারও মাদরাসার প্রতি টান ছিলো। ভিন্ন এক ভালোলাগা ছিল। এক অনুভূতি কাজ করতো। তাই আমার মাদরাসাতেই পড়া হয়।
ছাত্র জীবন।
কচুয়া থানায় মনপুরা পুনিয়ার কওমি