সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


ওলামা ও মাদরাসা প্রেমী এক প্রধানমন্ত্রীর গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।কাউসার লাবীব।।
সাব-এডিটর

বুয়ুক সেলজুক প্রধানমন্ত্রী নিযামুল মুলক। তার পুরো নাম আবু আলী আল-হাসান আল তুসি নিযাম উল-মুলক । তবে তিনি খাজা নিযামুল মুলক নামে অধিক পরিচিত। সেলজুকের এ উজিরে আলা বা প্রধানমন্ত্রী খণ্ডকালীন সময়ের জন্য সেলজুক সাম্রাজ্যের শাসক হিসেবেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। নিযামুল মুলক তার নাম নয়। এটি তার উপাধী। সেলজুক সাম্রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনি বেশ প্রভাব রাখার ফলে তিনি “নিযামুল মুলক” উপাধী লাভ করেন।

তার জন্ম ইংরেজি ১০১৮ সালে তুস শহরে। ১১ বছর বয়সে হিফজ শেষ করেন। এরপর তাফসির, হাদিস ও শাফেয়ি ফিকহে তিনি পান্ডিত্য অর্জন করেন। লেখাপড়া শেষে তিনি গজনির সুলতানদের অধীনে চাকরি করতেন। পরে বুয়ুক সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। যেগুলো ইতিহাসে নেযামিয়া মাদরাসা নামে পরিচিত। তিনি আলেমদের খুব সম্মান করতেন। আজানের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে সব কাজ রেখে মসজিদে চলে দিতেন।

খাজা নিযামুল মুলক বাগদাদ, নিশাপুর , ইস্পাহান, খোরাসান, বর্তমান আফগানিস্তানের বালখ এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে নিযামিয়া নামে অসংখ্য মাদরাসা স্থাপন করেছিলেন। এসব মাদরাসা বর্তমান যুগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলেই গড়ে তোলা হয়েছিল। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে তিনি ইসলামি সভ্যতায় উচ্চ শিক্ষাকে উন্নত পর্যায়ে বা পূর্ণতায় পৌঁছানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। হিজরি ৪৫৯ সালে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত নেযামিয়া মাদরাসাটি ছিল তার প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এখানে শিক্ষকতা করেছিলেন আবু আব্দুল্লাহ তাবারি, আবু মুহাম্মাদ খাওয়ারেযমি, আবু ইসহাক শিরাজি, আবু হামিদ গাজালির মতো মুসলিম দার্শনিকরা। বাগদাদে নেযামিয়া মাদরাসার ব্যাপক সফলতা পাওয়ার পর নেযামুল মুলক একের পর মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন।

বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত নেযামিয়া মাদরাসার গ্রন্থাগার ছিল ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম গ্রন্থাগার। যশ-খ্যাতি ও সমৃদ্ধির দিক থেকে এই গ্রন্থাগারটির গর্ব করার মতো সংক্ষিপ্ত একটি দিনপঞ্জী বা ইতিহাসও রয়েছে। নিজামুল মুলক এই গ্রন্থাগারগুলো নির্মাণ করেছেন এবং তিনি নিজেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি বা দেখাশোনা করতেন। তিনি মাদরাসাটি পরিদর্শন করতে গিয়ে ছোট্ট একটি রেসালা লিখেছিলেন। তাতে গ্রন্থাগার ও মাদরাসাটির প্রশাসনিà