সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম: মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী।।

জাতীয় কবি নজরুল বলে গেছেন-

বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

হ্যাঁ। কবি সত্য বলেছেন। নারীর অবদান ধরিত্রীতে পুরুষের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। কিন্তু সর্বযুগেই নারীরা ছিল অধিকার বঞ্চিত। নানাভিদ বঞ্ছনার শিকার। এখনো নারী অধিকারের নামে নারীকে জাহেলী যুগের সেই পণ্য করার প্রতিযোগিতাই পরিলক্ষিত হয়। আমরা এ প্রবন্ধে সংক্ষেপে ইসলাম আসার পূর্বে নারীদের অবস্থা তুলে ধরবো। তারপর ইসলাম এসে নারীদের কোন স্থানে উন্নীত করেছে তাও উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

ইসলামপূর্ব নারী

ইসলাম পূর্ব সময়ে নারীদের মানুষ হিসেবে কোন মর্যাদা ছিল না। তাদের কেবলি অন্যান্য ব্যবহার উপযোগী পণ্য মনে করা হতো। নারী জন্মকে পাপ মনে করা হতো। লজ্জজনক মনে করা হতো। নারীদের পণ্যের মত বাজারে বিক্রি করা হতো। নারীদের কোন মীরাছী হক ছিল না। কোন মেয়েকে কোন পুরুষ হত্যা করলে, তার বদলে হত্যাকারী তার ঘরের একজন মেয়েকে প্রেরণ করতো। যাতে করে হত্যার বদলে তাকে হত্যা করা হয়।

কন্যা সন্তান জন্ম নিয়ে সমাজের লজ্জায় পিতারা তার কন্যাকে জীবন্ত দাফন করে দিতো। হায়েজ নেফাসের সময় নারীদের আলাদা ঘরে রেখে দেয়া হতো। নারীদের তালাকের কোন অধিকার ছিল না। ছিল না বিবাহিত নারীকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার কোন অধিকার। স্বামী মৃত্যুর পর স্বামীর সাথেই দাহ করার মত ঘৃণ্য প্রথাও ছিল প্রচলিত।

ইসলাম এসে নারীকে তার সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছে। সংক্ষেপে আয়াত ও হাদীসের উদ্ধৃতিতে তা উল্লেখ করা হল।

জন্ম নেবার অধিকার

নারী জন্মকেই পাপ মনে করা হতো। অকল্যাণকর মনে করা হতো। ইসলাম এসে সেই জাহিলী ধারণাকে পায়ে দলে ঘোষণা করে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়াকে সুসংবাদ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে- ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তারা মুখ কাল হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, না তাকে মাটির নীচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ [সূরা নাহল-৫৮-৫৯]

কন্যা সন্তানকে হত্যা করাকে ভয়াবহ জঘন্য গোনাহ বলে আখ্যায়িত করে ইরশাদ হচ্ছে- ‘যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল?’ [সূরা তাকয়িà