মুফতী কামরুজ্জামান।।
পবিত্র কোরআনে কারিম ইসলামের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ। একইসঙ্গে এটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানের প্রেসক্রিপশন। আল্লাহ এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন-এর পিছনে যে তাঁর মহান উদ্দেশ্য রয়েছে কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় তা বর্ণনা করেছেন সুনিপনভাবে। সুরা আবাসার কয়েকটি আয়াত পাঠ করলে আমরা সে বিষয় পরিপূর্ণ বুঝতে পারি।
মহান আল্লাহ কিভাবে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের কি কি নেয়ামত দান করেছেন তা কিছুটা বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে এর পরই কেয়ামত দিবসের কঠিন বাস্তবতাও বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ (২৪) ‘মানুষ যেন তার খাবারের প্রতি লক্ষ্য করে।’ অর্থাৎ অস্বীকারকারী মানুষ যেন লক্ষ্য করে তার জীবন পরিক্রমার দিকে কিভাবে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, কিভাবে তার জীবন ধারণের উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, কিভাবে তিনি তার জন্য খাবার উৎপাদন করেছেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তা’য়ালা বিস্তারিত ভাবে বলেন أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا (২৫)
আমি পূর্ণ রুপে (আসমান থেকে) বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। অর্থাৎ আমি আমার কুদরতে খুব বিরল পন্থায় মেঘ-মালা থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا (২৬) তারপর জমিনকে বিদীর্ণ করেছি। অর্থাৎ উদ্ভিদ উদগত করার দ্বারা জমিনকে অভিনব পন্থায় বিদীর্ণ করেছি।
(২৯)وَحَدَائِقَ غُلْبًا (৩০) وَفَاكِهَةً وَأَبًّا (৩১) وَعِنَبًا وَقَضْبًا (২৮) وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا তারপর তাতে উদগত করেছি শষ্য, সুস্বাদু আঙ্গুর, তরতাজা সবজি, যাইতুন ও খেজুর। আরো উদগত করেছি পত্র-পল্লবিত ঘন বাগান। ফলফলাদি ও ঘাস যেগুলো চতুষ্পদ জন্তুরা খেয়ে থাকে। مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ (৩২) তোমাদের এবং তোমাদের চতুষ্পদ জš‘গুলোর উপভোগের সামগ্রি হিসেবে। অর্থাৎ এগুলো আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদের উপকারের জন্য। এরপর আল্লাহ তা’য়ালা কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ (৩৩) অতপর যখন الصَّاخَّةُ আসবে, হাফেজ ইবনুল কাসীর রহ. বলেন الصَّاخَّةُ কিয়ামতের একটি নাম। অর্থাৎ এমন বিকট আওয়াজ যার কারণে মানুষের কর্ণ বধির হয়ে যাবে।
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ (৩৪) وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ (৩৫) وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ (৩৬) সেদিন লোকেরা তার আপন ভাই, মা, বাবা এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পলায়ন করবে। দুনিয়াতে লোক