নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বংশাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র জিসানের সন্ধান মিলেছে চাঁদপুরে। পুলিশ বলছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি; মোবাইলফোন নেওয়ার অভিযোগে ভয় পেয়ে নিজেই মাদরাসা থেকে পালিয়ে যায় সে। নিখোঁজের সুযোগ নিয়ে এদিকে জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় একটি প্রতারক চক্র।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর থেকে জিসানকে উদ্ধার করে বংশাল থানা পুলিশ। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর রাজধানীর বংশালের সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর জিসানের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা সাজু মিয়া। জিডি নম্বর ১১৩১।
জিডির তদন্তে মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম। ফুটেজে জিসানকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর তার গতিপথের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান লুকিয়ে রেখেছে—এমন অভিযোগ উঠেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মুঠোফোন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, এ ঘটনায় ভয় পেয়েই মাদরাসা থেকে পালিয়ে যায় জিসান।
মাদরাসা থেকে বের হয়ে সে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে একটি লঞ্চে করে চাঁদপুরে চলে যায়। সেখানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামে এক অটো মেকানিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সৈকতের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে কাজ করার পাশাপাশি তার বাসায় অবস্থান করতে থাকে জিসান।
পুলিশ জানায়, সৈকতের কাছে জিসান নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছিল, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তবে পরে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সৈকত তার কাছ থেকে এক আত্মীয়ের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পরে বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম গত ২৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে জিসানকে উদ্ধার করেন এবং পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন।
জিসান নিখোঁজ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কাজে লাগায় একটি প্রতারক চক্র। ইমোতে জিসানের বাবাকে ফোন করে তারা দাবি করে, জিসান তাদের কাছে রয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে জিসানের বাবা ১০ হাজার টাকা পাঠান। তবে জিসান উদ্ধারের পরও তার বাবাকে ইমোতে ফোন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বংশাল থানা পুলিশ টাকা পাঠানোর বিকাশ নম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পারে, নম্বরটির ঠিকানা গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য, জিসানকে অপহরণ করা হয়নি। মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয় পেয়ে সে মাদরাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে তার নিখোঁজ হওয়ার সুযোগ নিয়ে পরিবারকে ফোন করে টাকা দাবি করা চক্রটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আইও/