শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮


মক্তব-হেফজখানার অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে দরকার সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফারুক ফেরদৌস: হেফযখানায় শিশু নির্যাতন নিয়ে গত দুই তিন দিন ধরে বেশ কথা বার্তা হচ্ছে। একজন আমাকে অনুরোধ করেছেন আমি যেন লিখি হেফযখানায় এত বেশি মার খাওয়ার প্রয়োজন কেন পড়ে? এ থেকে উত্তরণের পথ কি তার একটা রূপরেখাও যেন দেই। আমি চুপ ছিলাম কারণ এই বিষয়ে আমার মতামত বেশ বিপদজনক। আমার মত অনেকেরই পছন্দ হবে না।

আমি মনে করি, হেফযখানা ঘিরে এত সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ কুরআন পড়া ও হিফযের যে পদ্ধতি ভারতীয় উপমহাদেশে অনুসরণ করা হচ্ছে তা রসূল সা. ও সাহাবীদের সুন্নাহের বিপরীত, অস্বাভাবিক ও অপ্রাকৃতিক। এই পদ্ধতি নবীজি, সাহাবী, তাবেয়ী তাবে তাবেয়ী ও আয়েম্মায়ে মুজতাহিদীনের আমলের সুন্নাহের বিপরীত তো বটেই, এখনও উপমহাদেশ ছাড়া সারা পৃথিবীতে কোথাও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না।

কুরআন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ শুধু এর বিধানাবলী ও বক্তব্যের কারণে নয়। এর অসাধারণ সাহিত্য, লালিত্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ভাষার কারণেও। শুধু সাহিত্য হিসেবে পড়লেও কুরআন পাঠ অত্যন্ত আনন্দময় কাজ। আর অন্তরে বিশ্বাস থাকলে সেই আনন্দ স্বর্গীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কিন্তু ভারতীয় হিফযখানাগুলোতে এই কুরআন পাঠই হয়ে ওঠে অত্যন্ত নিরানন্দের একটা কাজ, যেহেতু কুরআন বোঝার মতো ভাষাজ্ঞান না শিখিয়েই কুরআন হিফয করানো শুরু করা হয়। হেফযখানার ছাত্ররা কুরআন পড়ে অনাগ্রহ ও নিরানন্দ নিয়ে। কুরআনের প্রতি যথাযথ ভক্তিও তাদের অন্তরে থাকে না। কুরআনের আয়াত দিয়ে নানা রকম ছড়া বানায় তারা। আমার নিজের কাছেও হেফযখানায় কুরআন পড়া নিরানন্দের কাজ ছিলো। কুরআন আগ্রহের সাথে পাঠ করেছি, কুরআন পাঠের স্বর্গীয় আনন্দ পেয়েছি কুরআন বুঝতে শেখার পর।

যে কোনো স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণ রীতি হলো, শিশু পড়বে নিজের আনন্দে ও আগ্রহে। নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য বেত রাখতে হয়। কিন্তু মূলত ওই পড়াশোনায় সে কিছুটা হলেও আনন্দ পায়, আগ্রহ বোধ করে। হেফযখানায় যেহেতু সেটা নাই, তাই বেতই হয়ে ওঠে সাধারণ রীতি। বেতের বাড়ি না খাওয়াটাই সেখানে অসাধারণ। বেতের ব্যবহার তো সব পড়াশোনায়ই কিছু কিছু থাকে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন মাদরাসার কিতাব বিভাগেও বেত্রাঘাত একটা ঘটনা। মানে কেউ বড় কোনো দোষ করলে বা ধারাবাহিকভাবে পড়া না পারলে কালেভদ্রে বেত্রাঘাতের à