শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


হাদীস অস্বীকারকারীদের মতাদর্শ ও তাদের মতের খন্ডন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহিম: যেসব মতাদর্শ হাদীস অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সামনে এসেছে সেগুলো তিন প্রকার।
১. রাসূূলে কারিম সা. এর দায়িত্ব ছিলো শুধু কুরআন পৌঁছানো। আনুগত্য ওয়াজিব শুধু কোরআনের। রাসূল হিসেবে রাসূল সা. এর অনুগত্য না সাহাবায়ে কেরামের উপর ওয়াজিব ছিলো, না আমাদের উপর ওযাজিব। (নাউজুবিল্লাহ) এবং ওহি শুধু মাতলু। ওহিয়ে গায়রে মাতলু বলতে কোন জিনিষ নেই। তাছাড়া কোরআনে কারিম বুঝার জন্য হাদীসের প্রয়োজন নেই।

২. নবী কারিম সা. এর বানীসমূহ সাহাবাদের জন্য হুজ্জত ছিলো। কিন্তু আমাদের জন্য হুজ্জত নয়।
৩. রাসূল সা. এর বাণীসমূহ সমস্ত মানুষের জন্য প্রমাণ। কিন্তু বর্তমান হাদীসগুলো আমাদের নিকট নির্ভরযোগ্য সূত্রে পৌঁছেনি। এজন্য এগুলো মানার দায়িত্ব আমাদের উপর নয়।
হাদীস অস্বীকারকারীরা যে কোন শ্রেণি বা দলের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক, তাদের প্রতিটি লেখা এই তিনটি মতবাদ থেকে কোন না কোন একটির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। আমরা এজন্য তাদের পরস্পর বিরোধী সাংঘর্ষিক মতবাদেগুলোর প্রত্যেকটির উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।

প্রথম মতের খন্ডন: ১. وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ الله إِلَّا وَحيًا أو مِن وَرَاءِ حِجَابٍ أو يُرسِلَ رَسُولًا (সূরা শুরা : আয়াত ৫১) এ আয়াতে রাসূল প্রেরণ ছাড়াও ওহিকে মানুষের সাথে আল্লাহ তায়া‘লার কথা বলার একটি স্বতন্ত্র মাধ্যমরূপে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হচ্ছে, وحي غير متلو।
২. وَمَا جَعَلنَا القِبلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيهَا إِلَّا لِنَعلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَى عَقِبَيهِ (সূরা বাকারা : ১৪৩) এখানে القِبلَةَ শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য বাইতুল মুকাদ্দাস। আর তার দিকে রুখ করে নামায আদায় করার হুকুম আল্লাহ তায়া‘লা جَعَلنَا শব্দ দিয়ে নিজের দিকে নিসবত করেছেন। অথচ কুরআনের কোথাও বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায়ের আদেশ উল্লেখ নেই। নিশ্চিত এই আদেশটি وحي غير متلو এর মাধ্যমে দিয়েছিলেন। এবং তাকে নিজের দিকে নিসবত করে একথাই স্পষ্ট করে দিলেন যে, وحي غير متلو এর আদেশও وحي متلو এর ন্যায় মানা জরুরী।
৩. عَلِمَ الله أَنَّكُم كُنتُم تَختَانُونَ أَنفُسَكُم (সূরা বাকারাহ : ১৮৭) এই আয়াতে রমজানের রাত্রিগুলোতে সহবাস করাকে খেয়ানত সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতপর তার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই থেকে বুঝা যায় যে কুরআনে কারীম একথা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এর পূর্বে সহবাস হারাম ছিলো। অথচ কোরআনের কোথাও এই আদেশ উল্লেখ নেই। নিশ্চিত এই আদেশ وحي غير متلو এর দ্বারা করা হয়েছিলো। এবং তার বিরোধিতা কুরআনের দৃষ্টিতে খিয়ানত।