সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


অনলি ফর ম্যান: ঝরঝরে গদ্যে যাপিত জীবনের বিন্দু বিন্দু অতীত অনুতাপ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাইফুল্লাহ সুবহান।।

পরিবার পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। পুরুষের ঘামে নারীর প্রেমে গড়ে ওঠা আদিমতম পার্থিব সংগঠন।

পরিবারে নারী পুরুষ শ্রমের ক্ষেত্র ও ধরনে বিচিত্র। বিচিত্র তাদের স্বভাব ও অনুভবে, সতর্কতা ও সহমর্মিতায়, আনন্দ ও দুঃখবোধে। এ বৈচিত্র্য সত্ত্বেও উভয়ের মাঝে আছে এক ঐক্য। কাজ ও পরিশ্রমের ঐক্য। উভয়ের কাজই পরিশ্রমের, উভয়ের শ্রমই সাধনার এবং পরিবার গঠনে সমান গুরুত্বের। এই জায়গাটায়ই ভুল করে পৃথিবীর প্রায় নব্বই ভাগ পুরুষ! নরীর ঘরোয়া কাজ তাদের চোখে পরিশ্রম হয়ে ওঠে না। মূল্যায়িত হওয়া তো দূরের কথা শান্তনাধর্মী সামান্য প্রশংসাও পায় না। ফলে নারী পুরুষের বৈচিত্র্য পরিণত হয় পুরুষ নারীর পার্থক্যে। তৈরি হয় বৈষম্যের দেয়াল। ভেঙ্গে যায় সংসার। এই ভাঙ্গন রোধে নারীর করণীয় নিয়ে পৃথিবী জুড়ে এ যাবৎ কথা হয়েছে বিস্তর। 'সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে'-র মতো আপ্তবাক্যের প্রচলন পেয়েছে মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু ভাঙ্গনের দায় কী কেবলই নারীর? পুরুষের কি কোনোই দায় নেই? এর রোধকল্পে কোনো দায়িত্ব কী নেই পুরুষের? অবশ্যই আছে! সেই দায় এবং দায়িত্বেরই সহজ সরল প্রাঞ্জল সুবিন্যস্ত সুরভিত বিবরণ 'অনলি ফর ম্যান'।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধির কাল একবিংশ শতাব্দী। অধিকাংশ ধ্বংসের ও সামান্য কিছু সৃজনের অসামান্য ও অকল্পনীয় সব যন্ত্রপাতিতে সয়লাব মানুষের সভ্যতা। তবে এত উন্নতি অগ্রগতি সত্ত্বেও সভ্য মানুষের প্রথম পরিচয় পরিবার এখন সংকটের মুখে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে পারিবারিক বন্ধন এখন চূড়ান্ত অবনতি ও বিলুপ্তির পথে। প্রতিদিন বাড়ছে দাম্পত্য বিচ্ছিন্নতা। সংসার ভাঙ্গার হিড়িক পড়ে গেছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। বিজ্ঞানমোহান্ধ আধুনিক যান্ত্রিক মানুষেরা এ ব্যাপারে যেন ভীষণ উদাসীন। এদিকে দৃষ্টি দেবার সুযোগ বা ইচ্ছা কোনটিই যেন নেই কারো। সময় যখন এমন প্রতিকূল ও ভয়াবহ, সে জায়গায় দাঁড়িয়ে 'অনলি ফর ম্যান' একটি প্রশংসার্হ ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ। লেখক অনুবাদক প্রকাশক সকলেই সাধুবাদ পাওয়ার উপযুক্ত।

'অনলি ফর ম্যান' বইটি শুরু হয়েছে কতগুলো 'বিস্ময়কর প্রশ্ন' দিয়ে। বিস্ময়কর কারণ, প্রশ্নগুলো পড়াকালীন সংসারী পাঠক মাত্রেরই মনে হবে এ তার ঘরের কথা, এবà